অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَفَتُمَارُونَهُ – তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করছ? (অর্থাৎ তুমারূন = ঝগড়া-বিবাদ করা, বাক-বিতণ্ডা করা)
- عَلَى مَا يَرَى – যা তিনি দেখেছেন সে বিষয়ে (অর্থাৎ মি'রাজের রাতে যা কিছু তিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন)
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরাইশ মুশরিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্নমূলক ভর্ৎসনার ভাষায় বলছেন—তোমরা কি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বাক-বিতণ্ডা করছ এবং তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছ সেই বিষয়ে যা তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন? অথচ তিনি যা দেখেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য, কোনো প্রকার কল্পনা বা মিথ্যা নয়। মুশরিকরা যখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মি'রাজের ঘটনা ও জিবরাইল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখার বিষয়টি শুনল, তখন তারা তা অস্বীকার করে এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে লাগল। আল্লাহ তাআলা এখানে তাদের এই আপত্তিকর আচরণকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন—তোমরা এমন একজন সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবীর সাথে কেন বিতর্ক করছ, যিনি যা দেখেছেন তা নিঃসন্দেহে সত্য?
ঘটনার প্রেক্ষাপট এই যে, মি'রাজের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরাইল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দু'বার দেখেছেন—একবার দুনিয়ার আসমানে, আরেকবার সিদরাতুল মুনতাহায়। এছাড়া তিনি জান্নাত, জাহান্নাম এবং আল্লাহর নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন। মুশরিকরা যখন এসব কথা শুনল, তখন তারা তা অসম্ভব মনে করে তর্ক-বিতর্ক শুরু করল। আল্লাহ তাআলা তাদের এই মনোভাবকে ভর্ৎসনা করে বলছেন—তোমরা কি সেই বিষয়ে বাক-বিতণ্ডা করছ যা তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন? তোমাদের কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই, অথচ তোমরা একজন সত্যবাদী নবীর সাক্ষ্যকে মিথ্যা বলার সাহস করছ?
শিক্ষা ও উপদেশ:
- নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু দেখেছেন বা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ সত্য; তাতে কোনো সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই। মুমিনের কর্তব্য হলো নবীজীর প্রতিটি কথা ও ঘটনা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা।
- অদৃশ্য বিষয়ে মানুষের জ্ঞান সীমিত; তাই আল্লাহর নবী যা কিছু জানিয়েছেন, তা যুক্তি-তর্কের ঊর্ধ্বে। মুশরিকদের মতো আমাদেরও উচিত নয় অদৃশ্য বিষয় নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করা।
- মি'রাজের ঘটনা আমাদের ঈমানের পরীক্ষা। যে ব্যক্তি এতে বিশ্বাস করে, সে প্রকৃত মুমিন; আর যে সন্দেহ পোষণ করে, সে মুনাফিকের অন্তর্ভুক্ত।
- আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে যে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন—আকাশ ভ্রমণ, সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছানো, আল্লাহর দর্শনলাভের মতো মহান নিয়ামত—তা এমন এক বিষয় যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি। এটি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও নবীজীর মর্যাদার প্রমাণ।
- সত্যকে মেনে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন বিনয়ী হৃদয়; অহংকার ও হঠকারিতা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যেমনটি মুশরিকদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।
📜 আয়াত 10-14 — আন-নাজম
অনুবাদ — আন-নাজম 12
সূরা আন-নাজম আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?সূরা আয়াত 12/62 — আন-নাজম النجم (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নাজম শুনুন, আন-নাজম অনুবাদ, আন-নাজম mp3, আন-নাজম pdf. আয়াত 10–14. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








