তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ताकि जो लोग इफ़तेरा परदाज़ियाँ ये लोग ख़ुद करते हैं वह भी करने लगें (क्या तुम ये चाहते हो कि) मैं ख़ुदा को छोड़ कर किसी और को सालिस तलाश करुँ हालॉकि वह वही ख़ुदा है जिसने तुम्हारे पास वाज़ेए किताब नाज़िल की और जिन लोगों को हमने किताब अता फरमाई है वह यक़ीनी तौर पर जानते हैं कि ये (कुरान भी) तुम्हारे परवरदिगार की तरफ से बरहक़ नाज़िल किया गया है
তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
حَكَمًا — বিচারক, মীমাংসাকারী।
مُفَصَّلًا — বিস্তারিত, সুস্পষ্টভাবে বিবৃত, যাতে সত্য-মিথ্যা স্পষ্ট।
الْمُمْتَرِينَ — সন্দেহকারী, সংশয়ী।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! আপনি কি সেই মুশরিকদের কথা ভাবছেন যারা আপনার সাথে বিবাদে লিপ্ত এবং তারা আপনার বিরুদ্ধে অন্য কোনো বিচারক খোঁজে? তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন: “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করব? অথচ তিনিই তো তোমাদের কাছে এই কিতাব (কুরআন) নাজিল করেছেন, যা সম্পূর্ণ বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট — এতে সত্য-মিথ্যার, হালাল-হারামের এবং তোমাদের বিবাদের সব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।”
যারা পূর্বে কিতাব (তাওরাত ও ইঞ্জিল) পেয়েছিল, তাদের আলেমগণ দৃঢ়ভাবে জানেন যে এই কুরআন আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য সহকারে নাজিলকৃত। কারণ তাদের নিজ নিজ কিতাবে এর সত্যতার প্রমাণ ও সুসংবাদ রয়েছে। অতএব, হে নবী! আপনি কিছুতেই সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না — যে বিষয়ে আল্লাহ আপনার প্রতি ওহি নাজিল করেছেন, তাতে কোনো প্রকার সংশয় পোষণ করবেন না। নিশ্চয়ই এটি সত্য এবং আপনার প্রতি যা নাজিল হয়েছে তা সম্পূর্ণ নির্ভুল।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর কিতাবই সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত বিচারক। মুমিনের কর্তব্য যেকোনো বিবাদে আল্লাহর বিধানকেই প্রাধান্য দেওয়া, অন্য কোনো মানবীয় রায় বা প্রথাকে নয়।
কুরআন এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত গ্রন্থ, যা মানুষের জীবনের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়। তাই এর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং এর নির্দেশ মেনে চলাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের আলেমগণ কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন — এটি প্রমাণ করে যে কুরআন পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের সত্যায়নকারী এবং সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নির্দেশনা।
নবীজি (সা.)-কে সন্দেহ না করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ আমাদেরকেও শিক্ষা দিয়েছেন যে, দ্বীনের কোনো বিষয়ে সন্দেহ-সংশয় পোষণ করা উচিত নয়; বরং দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থার সাথে ইসলামের ওপর অটল থাকতে হবে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের বিধানই সর্বোত্তম ও ন্যায়সংগত। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত সব বিষয়ে আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া এবং অন্য যেকোনো বিচারব্যবস্থা থেকে বিরত থাকা।
এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।
অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন যাতে কারুকার্যখচিত বাক্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ করে, যা তারা করছে।
তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।