আল-আনআম · 66/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
وَكَذَّبَ بِهِ قَوْمُكَ وَهُوَ الْحَقُّ ۚ قُل لَّسْتُ عَلَيْكُم بِوَكِيلٍ ۝٦٦
Wa kaz zaba bihee qawmuka wa huwal haqq; qul lastu`alaikum biwakeel
📖 বাংলা অর্থ
আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • কওমুকা – আপনার সম্প্রদায়/গোত্র।
  • ওয়াকিল – তত্ত্বাবধায়ক, রক্ষক, কার্যনির্বাহক বা জবরদস্তি করে ঈমান আনার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তি।

তাফসির:

হে নবী! আপনার সম্প্রদায়ের কাফিররা এই কুরআনকে মিথ্যা বলেছে, অথচ এটি সম্পূর্ণ সত্য ও নিশ্চিত সত্যবাদী কিতাব। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এর প্রতিটি বিষয় সত্য ও ন্যায়সংগত। তারা যখন এত স্পষ্ট সত্যকে অস্বীকার করল, তখন আপনি তাদের বলুন: “আমি তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক বা রক্ষক নিযুক্ত নই। আমার দায়িত্ব শুধু আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং তোমাদেরকে সতর্ক করা। তোমাদেরকে জোর করে ঈমান আনার দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়নি। আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী, যে আসন্ন কঠিন শাস্তির পূর্বে তোমাদেরকে ভয় দেখাই।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্যকে মিথ্যা বলার কারণে সত্যের মর্যাদা কমে না; বরং সত্য চিরকাল সত্য থাকে, অস্বীকারকারীদের অস্বীকৃতিই তাদের ক্ষতির কারণ হয়।
  2. দাওয়াতের কাজে জবরদস্তি নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দায়িত্ব ছিল শুধু পৌঁছে দেওয়া; হিদায়াত দেওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়।
  3. মুমিনের কর্তব্য হলো সত্য প্রচার করা এবং ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া। মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা।
  4. ইসলাম একটি সহজ ও যুক্তিসঙ্গত ধর্ম; এতে বিশ্বাস গ্রহণের জন্য কোনো জোরাজুরি নেই, বরং প্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে মানুষকে আহ্বান করা হয়েছে।
  5. নবীজীর (সা.) মতো আমাদেরও উচিত দায়িত্ব পালনের পর মানুষের ঈমান আনা বা না আনার বিষয়ে চিন্তামুক্ত থাকা, কারণ প্রত্যেকের হিসাব আল্লাহর কাছে হবে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 64-68 — আল-আনআম

64قُلِ اللَّهُ يُنَجِّيكُم مِّنْهَا وَمِن كُلِّ كَرْبٍ ثُمَّ أَنتُمْ تُشْرِكُونَ
আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ তোমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দেন এব সব দুঃখ-বিপদ থেকে। তথাপি তোমরা শেরক কর।
65قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَىٰ أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ
আপনি বলুনঃ তিনিই শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়।
66وَكَذَّبَ بِهِ قَوْمُكَ وَهُوَ الْحَقُّ ۚ قُل لَّسْتُ عَلَيْكُم بِوَكِيلٍ
আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই।
67لِّكُلِّ نَبَإٍ مُّسْتَقَرٌّ ۚ وَسَوْفَ تَعْلَمُونَ
প্রত্যেক খবরের একটি সময় নির্দিষ্ট রয়েছে এবং অচিরেই তোমরা তা জেনে নিবে।
68وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
66আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 66

সূরা আল-আনআম আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে…

সূরা আয়াত 66/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না