awa `ajibtum an jaaa`akum zikrum mir Rabbikum `alaa rajulim minkum liyunzirakum; wazkurooo iz ja`alakum khulafaaa`a mim ba`di qawmi noohinw wa zaadakum filkhalqi bastatan fazkurooo aalaaa`al laahi la`allakum tuflihoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে কওমে নূহের পর সর্দার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর-যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
क्या तुम्हें इस पर ताअज्जुब है कि तुम्हारे परवरदिगार का हुक्म तुम्हारे पास तुम्ही में एक मर्द (आदमी) के ज़रिए से (आया) कि तुम्हें (अजाब से) डराए और (वह वक्त) याद करो जब उसने तुमको क़ौम नूह के बाद ख़लीफा (व जानशीन) बनाया और तुम्हारी ख़िलाफ़त में भी बहुत ज्यादती कर दी तो ख़ुदा की नेअमतों को याद करो ताकि तुम दिली मुरादे पाओ
তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে কওমে নূহের পর সর্দার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর-যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
ذِكْرٌ — উপদেশ, স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
خُلَفَاءَ — স্থলাভিষিক্ত, উত্তরাধিকারী।
بَسْطَةً — প্রশস্ততা, শক্তি ও দৈহিক গঠনে বিশালতা।
آلَاءَ — নেয়ামতসমূহ, অনুগ্রহসমূহ।
لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ — যাতে তোমরা সফলকাম হও।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা হজরত হূদ (আঃ)-এর জবানে তাঁর সম্প্রদায়কে সম্বোধন করে বলছেন: তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ যে, তোমাদেরই একজন মানুষের মাধ্যমে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ ও স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বার্তা এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে (আল্লাহর আযাব সম্পর্কে) সতর্ক করে? এটি কি আশ্চর্যের বিষয়? অথচ এটাই তো আল্লাহর রীতি—তিনি মানুষের মধ্য থেকেই রাসূল পাঠান, যাতে তারা মানুষের ভাষায় ও তাদের অবস্থা বুঝে দাওয়াত দিতে পারেন। এতে আশ্চর্যের কী আছে?
এরপর আল্লাহ তাদেরকে তাঁর নেয়ামত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন: তোমরা স্মরণ করো সেই সময়কে, যখন তিনি তোমাদেরকে নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের পর পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। অর্থাৎ, তাদেরকে ধ্বংস করার পর তোমাদেরকে তাদের স্থলে বসবাসকারী করেছেন। আর তিনি তোমাদের দেহে শক্তি, দৈর্ঘ্য ও বল-বিক্রমে প্রশস্ততা দান করেছেন—তোমাদের গঠন করেছেন সুদৃঢ় ও বিশাল। সুতরাং তোমরা আল্লাহর এই সকল নেয়ামত স্মরণ করো এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করো, যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারো এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারো।
শিক্ষা ও উপদেশ:
নবী-রাসূলগণ মানুষের মধ্য থেকেই প্রেরিত হয়েছেন—এটাই আল্লাহর চিরন্তন রীতি। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই; বরং এটি আল্লাহর রহমত যে, তিনি মানুষের কাছেই তাঁর বার্তা পাঠান, যাতে তারা সহজে বুঝতে পারে।
আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। নেয়ামতের কথা স্মরণ করলে অন্তরে কৃতজ্ঞতা জাগে এবং তা আল্লাহর আরও অনুগ্রহ লাভের কারণ হয়।
শক্তি-সামর্থ্য, দৈহিক সৌষ্ঠব ও পার্থিব ক্ষমতা—সবই আল্লাহর দান। এগুলো অহংকারের কারণ নয়, বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাঁর আনুগত্যের মাধ্যম হওয়া উচিত।
অতীত জাতির ধ্বংস ও বর্তমান প্রজন্মের উত্তরাধিকার লাভের ঘটনা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়। যারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, তাদের পরিণতি কী হতে পারে—তা ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নেওয়া যায়।
সফলতা (ফালাহ) কেবল দুনিয়ার সাময়িক লাভে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখিরাতের মুক্তি। আর তা অর্জনের পথ হলো আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করা ও তাঁর নির্দেশ মেনে চলা।
তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে কওমে নূহের পর সর্দার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর-যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।
তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আস আমাদের কাছে যাদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও।
সে বললঃ অবধারিত হয়ে গেছে তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ। আমার সাথে ঐসব নাম সম্পর্কে কেন তর্ক করছ, যেগুলো তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা রেখেছে। আল্লাহ এদের কোন মন্দ অবর্তীণ করেননি। অতএব অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।