আশ-শামস · 14/15
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শামস
فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا ۝١٤
Fakazzaboohu fa`aqaroohaa fadamdama `alaihim Rabbuhum bizambihim fasaw waahaa
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَكَذَّبُوهُ = তারা তাদের নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল।
  • فَعَقَرُوهَا = অতঃপর তারা উটনীকে হত্যা করেছিল (পা কেটে ফেলেছিল)।
  • فَدَمْدَمَ = অতঃপর তিনি তাদের উপর ধ্বংসাত্মক শাস্তি চাপিয়ে দেন (সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেন)।
  • فَسَوَّاهَا = অতঃপর তিনি তাদের সবার উপর সমানভাবে শাস্তি প্রয়োগ করেন (কাউকে রেহাই দেননি)।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এখানে সামুদ জাতির করুণ পরিণতির কথা বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল নবী সালেহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়। আল্লাহ তাদেরকে একটি বিশেষ নিদর্শন হিসেবে একটি উটনী দিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন—এটিকে কোনো কষ্ট দিও না, পানির নির্দিষ্ট অংশ তার জন্য রেখে দাও। কিন্তু এই জাতিটি ছিল অত্যন্ত অবাধ্য ও হঠকারী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য ও নিকৃষ্টতম ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং সেই উটনীকে হত্যা করল। তাদের নবী সালেহ (আঃ) তাদেরকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তারা তার কথা শুনল না, বরং তাকে মিথ্যাবাদী বলল এবং উটনীকে হত্যা করল।

এরপর আল্লাহ তাআলা তাদের এই ঘৃণ্য অপরাধের কারণে তাদের উপর ধ্বংসাত্মক শাস্তি নাযিল করলেন। তিনি তাদের উপর এমন এক ভয়ংকর শাস্তি চাপিয়ে দিলেন যা তাদের সবাইকে গ্রাস করল—কেউ রক্ষা পেল না। ধনী-গরিব, বড়-ছোট, সবাই সমানভাবে ধ্বংস হলো। আল্লাহর শাস্তি যখন আসে, তখন তা কাউকে ছাড় দেয় না।

এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য রয়েছে গভীর শিক্ষা। আল্লাহর নিদর্শন ও নির্দেশকে অমান্য করা, তাঁর রাসূলদের কথা না শোনা—এমন অপরাধের পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে, তা আমরা এখানে দেখতে পাই। অথচ আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বান্দাদের সতর্ক করার জন্য বারবার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। কিন্তু যে জাতি সতর্কবাণী অমান্য করে আল্লাহর শাস্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব।

আজও আমরা যদি আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলি, তাঁর রাসূল (সাঃ)-এর শিক্ষা অনুসরণ করি, তাহলে আল্লাহ আমাদের উপর রহমত বর্ষণ করবেন। কিন্তু যদি আমরা অহংকার ও অবাধ্যতা করি, তবে আল্লাহর শাস্তি থেকে কেউ আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। আসুন, আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করি এবং আল্লাহর আনুগত্যের পথে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করুন। আমীন।



📜 আয়াত 12-15 — সূরা আশ-শামস

12إِذِ انبَعَثَ أَشْقَاهَا
যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল।
13فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا
অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক।
14فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا
অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন।
15وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا
আল্লাহ তা’আলা এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির আশংকা করেন না।
আশ-শামসকুরআন সূচী
15আয়াত
মাক্কীRevelation
14আয়াত

অনুবাদ — আশ-শামস 14

সূরা আশ-শামস আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন…

সূরা আয়াত 14/15 — সূরা আশ-শামস الشمس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শামস শুনুন, সূরা আশ-শামস অনুবাদ, সূরা আশ-শামস mp3, সূরা আশ-শামস pdf. আয়াত 12–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না