ইউনুস · 51/109
অনুবাদ উচ্চারণ — ইউনুস
أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ آمَنتُم بِهِ ۚ آلْآنَ وَقَدْ كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ ۝٥١
Asumma izaa maa waqa`a aamantum bih; aaal`aana wa qad kuntum bihee tasta`jiloon
📖 বাংলা অর্থ
তাহলে কি আযাব সংঘটিত হয়ে যাবার পর এর প্রতি বিশ্বাস করবে? এখন স্বীকার করলে? অথচ তোমরা এরই তাকাদা করতে?

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَثُمَّ – তবে কি, এরপরও
  • إِذَا مَا وَقَعَ – যখন তা সংঘটিত হবে
  • آمَنتُم بِهِ – তোমরা তাতে বিশ্বাস করবে
  • آلْآنَ – এখন? (এটি তিরস্কারসূচক প্রশ্ন)
  • تَسْتَعْجِلُونَ – তোমরা তাড়াহুড়া করতে / দ্রুত কামনা করতে

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের উদ্দেশ্যে তিরস্কার ও ভর্ৎসনার সুরে বলছেন: যখন আল্লাহর আযাব ও শাস্তি অবশেষে তোমাদের উপর নেমে আসবে, তখনই কি তোমরা ঈমান আনবে? সেই মুহূর্তে ঈমান আনা কি কোনো কাজে আসবে? তখন তাদেরকে বলা হবে: “এখন কি তোমরা ঈমান আনছো? অথচ তোমরাই তো আগে এই আযাবকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের ছলে তাড়াতাড়ি আনার জন্য দাবি করতে!” অর্থাৎ, যখন আযাব আসার পূর্বে ঈমান আনার সময় ছিল, তখন তোমরা তা না করে আযাবকে ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে; আর যখন আযাব এসে গেল, তখন ঈমান আনা সম্পূর্ণ অর্থহীন। কারণ, আযাব দেখে ঈমান আনা জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলক ঈমান, যা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। পূর্বের কোনো নবীও যখন আযাব দেখে ঈমান এনেছিলেন, তখন তা তাদের থেকে গৃহীত হয়নি, যেমন ফিরআউন যখন মৃত্যুর সময় ঈমান এনেছিল, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। সুতরাং এই আয়াতটি কেয়ামত বা আযাবের সময় ঈমান আনার অসারতা প্রমাণ করে এবং মুশরিকদেরকে তাদের পূর্বের মনোভাবের জন্য ভর্ৎসনা করে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ঈমান আনার সঠিক সময় হলো সুস্থ অবস্থায় ও আযাব আসার পূর্বে; আযাব দেখে বা মৃত্যুর সময় ঈমান আনা কোনো উপকারে আসে না। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত সময় থাকতে ঈমান আনা এবং তা দৃঢ় করা।
  2. আল্লাহর আযাব ও শাস্তি নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা বা তা তাড়াতাড়ি কামনা করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। মুমিনের উচিত আল্লাহর শাস্তি থেকে ভয় করা এবং তাঁর রহমতের আশা করা।
  3. আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সহনশীল; তিনি বান্দাদের তাওবার সুযোগ দেন। কিন্তু যখন নির্ধারিত সময়ে আযাব এসে যায়, তখন আর কোনো সুযোগ থাকে না। তাই আল্লাহর রহমতের সময়কে কাজে লাগানো প্রত্যেক বান্দার কর্তব্য।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যই সত্য; তিনি যে শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন, তা অবশ্যই আসবে। তাই কুরআনের সতর্কবাণীকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা এবং তা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা অপরিহার্য।


📜 আয়াত 49-53 — ইউনুস

49قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۗ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ ۚ إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً ۖ وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
তুমি বল, আমি আমার নিজের ক্ষতি কিংবা লাভেরও মালিক নই, কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই একেকটি ওয়াদা রয়েছে, যখন তাদের সে ওয়াদা এসে পৌঁছে যাবে, তখন না একদন্ড পেছনে সরতে পারবে, না সামনে ফসকাতে পারবে,।
50قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُهُ بَيَاتًا أَوْ نَهَارًا مَّاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ الْمُجْرِمُونَ
তুমি বল, আচ্ছা দেখ তো দেখি, যদি তোমাদের উপর তার আযাব রাতারাতি অথবা দিনের বেলায় এসে পৌঁছে যায়, তবে এর আগে পাপীরা কি করবে?
51أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ آمَنتُم بِهِ ۚ آلْآنَ وَقَدْ كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ
তাহলে কি আযাব সংঘটিত হয়ে যাবার পর এর প্রতি বিশ্বাস করবে? এখন স্বীকার করলে? অথচ তোমরা এরই তাকাদা করতে?
52ثُمَّ قِيلَ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا بِمَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ
অতঃপর বলা হবে, গোনাহগারদিগকে, ভোগ করতে থাক অনন্ত আযাব-তোমরা যা কিছু করতে তার তাই প্রতিফল।
53۞ وَيَسْتَنبِئُونَكَ أَحَقٌّ هُوَ ۖ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقٌّ ۖ وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ
আর তোমার কাছে সংবাদ জিজ্ঞেস করে, এটা কি সত্য ? বলে দাও, অবশ্যই আমার পরওয়ারদেগারের কসম এটা সত্য। আর তোমরা পরিশ্রান্ত করে দিতে পারবে না।
ইউনুসকুরআন সূচী
109আয়াত
মাক্কীRevelation
51আয়াত

অনুবাদ — ইউনুস 51

সূরা ইউনুস আয়াত 51 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাহলে কি আযাব সংঘটিত হয়ে যাবার পর এর প্রতি বিশ্বাস…

সূরা আয়াত 51/109 — ইউনুস يونس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইউনুস শুনুন, ইউনুস অনুবাদ, ইউনুস mp3, ইউনুস pdf. আয়াত 49–53. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না