তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُلْكُ — রাজত্ব, আধিপত্য, পূর্ণ মালিকানা।
وَلِيٌّ — বন্ধু, অভিভাবক, সাহায্যকারী।
نَصِيرٌ — সহায়, রক্ষাকারী, যে বিপদ থেকে রক্ষা করে।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও জমিনের সম্পূর্ণ রাজত্ব ও মালিকানা একমাত্র আল্লাহরই? তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করেন, যা আদেশ করেন তা-ই কার্যকর হয়। তিনি তাঁর বান্দাদের যা চান আদেশ দেন এবং যা চান নিষেধ করেন। শরীয়তের বিধান তিনি যেমন চান প্রতিষ্ঠা করেন এবং তেমনই চান রহিত করেন। তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর রাজত্বে কারো কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
আর হে মানুষ! আল্লাহ ছাড়া তোমাদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই যে তোমাদের বিষয় দেখভাল করবে, আর কোনো সাহায্যকারীও নেই যে আল্লাহর শাস্তি থেকে তোমাদের রক্ষা করবে। যখন আল্লাহর শাস্তি নেমে আসবে, তখন কোনো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা সাহায্যকারীই তোমাদের রক্ষা করতে পারবে না। বরং আল্লাহই একমাত্র অভিভাবক ও সাহায্যকারী, যিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
ফায়দা (উপকারিতা):
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। তাঁর আদেশ-নিষেধই চূড়ান্ত, তাই আমাদের প্রতিটি কাজে তাঁর বিধানকে প্রাধান্য দিতে হবে।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপর নির্ভর করা সম্পূর্ণ নিরর্থক। মানুষের উচিত সব বিষয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা, কারণ তিনিই একমাত্র প্রকৃত সাহায্যকারী।
এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা জাগ্রত করে। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো রক্ষাকারী নেই, তখন আমরা তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকি এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি।
এটি আমাদেরকে ধৈর্য ও দৃঢ়তা শেখায়। বিপদ-আপদে যখন মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে, তখন এই জ্ঞান যে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী, আমাদের মনোবল শক্তিশালী করে এবং আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
এই আয়াত ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস তাওহীদের (একত্ববাদের) প্রতি আমাদের দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে শেখায় এবং শিরক (আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা) থেকে সতর্ক করে।
আহলে-কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের, তাদের মনঃপুত নয় যে, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ ভাবে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ মহান অনুগ্রহদাতা।
ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন, ) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।