Fasaqaa lahumaa summa tawallaaa ilaz zilli faqaala Rabbi innee limaaa anzalta ilaiya min khairin faqeer
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तब मूसा ने उन की (बकरियों) के लिए (पानी खीच कर) पिला दिया फिर वहाँ से हट कर छांव में जा बैठे तो (चूँकि बहुत भूक थी) अर्ज क़ी परवरदिगार (उस वक्त) ज़ो नेअमत तू मेरे पास भेज दे मै उसका सख्त हाजत मन्द हूँ
অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فَسَقَى لَهُمَا – তিনি তাদের (দুই নারীর) জন্য পানি পান করালেন।
تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ – তিনি ছায়ার দিকে চলে গেলেন।
أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ – আপনি আমার প্রতি যা কিছু কল্যাণ/রিজিক নাযিল করেছেন।
فَقِيرٌ – আমি অভাবী/মুখাপেক্ষী।
তাফসীর:
মূসা (আ.) যখন মাদইয়ানের কূপের কাছে পৌঁছলেন, তখন দেখলেন অনেক রাখাল তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছে, আর দুইজন নারী নিজেদের পশুদের আটকে রেখেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কী হয়েছে?” তারা বলল, “আমরা পানি পান করাতে পারছি না, যতক্ষণ না রাখালরা চলে যায়। আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ, তাই এ কাজটি আমাদেরই করতে হয়।” তখন মূসা (আ.) তাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে তাদের পশুদের পানি পান করালেন। তারপর প্রচণ্ড গরমের কারণে তিনি একটি গাছের ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নিলেন। ক্ষুধায় তিনি ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তখন তিনি আল্লাহর দরবারে নিজের অভাব ও প্রয়োজন পেশ করে বললেন, “হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করুন, আমি তার মুখাপেক্ষী।” তিনি সরাসরি খাবার চাননি, বরং আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনীয়তা নম্রভাবে প্রকাশ করেছেন। এটি ছিল তার বিনয় ও আল্লাহর উপর ভরসার প্রকাশ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা, বিশেষত দুর্বল ও অসহায়দের সাহায্য করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মূসা (আ.) নিজে ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হওয়া সত্ত্বেও দুই নারীর পশুদের পানি পান করালেন।
আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করা এবং নিজের অভাব প্রকাশ করা উত্তম। মূসা (আ.) সরাসরি চাওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রেখে বলেছেন, “আপনি যা কিছুই পাঠান, আমি তার মুখাপেক্ষী।”
বিপদ-সংকটে আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মূসা (আ.) যখন নিজেকে অসহায় মনে করলেন, তখনই তিনি আল্লাহর দিকে ফিরলেন।
পরিশ্রম ও হালাল উপার্জনের প্রতি উৎসাহ পাওয়া যায়। মূসা (আ.) নিজের হাতে কাজ করে পানি পান করালেন, অলসভাবে বসে থাকেননি।
আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় নিজের প্রয়োজনকে সংক্ষিপ্ত ও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা এবং বেশি কথা না বলা উত্তম। এটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর কাছে চাওয়ার সময় বিনয়ী ও সংক্ষিপ্ত হওয়া ভালো।
যখন তিনি মাদইয়ানের কূপের ধারে পৌছলেন, তখন কূপের কাছে একদল লোককে পেলেন তারা জন্তুদেরকে পানি পান করানোর কাজে রত। এবং তাদের পশ্চাতে দূ’জন স্ত্রীলোককে দেখলেন তারা তাদের জন্তুদেরকে আগলিয়ে রাখছে। তিনি বললেন, তোমাদের কি ব্যাপার? তারা বলল, আমরা আমাদের জন্তুদেরকে পানি পান করাতে পারি না, যে পর্যন্ত রাখালরা তাদের জন্তুদেরকে নিয়ে সরে না যায়। আমাদের পিতা খুবই বৃদ্ধ।
অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
অতঃপর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর কাছে আগমন করল। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যাতে আপনি যে আমাদেরকে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করেন। অতঃপর মূসা যখন তাঁর কাছে গেলেন এবং সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন, তখন তিনি বললেন, ভয় করো না, তুমি জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।