এগুলো হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, যা তোমাদিগকে যথাযথ পাঠ করে শুনানো হচ্ছে। আর আল্লাহ বিশ্ব জাহানের প্রতি উৎপীড়ন করতে চান না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আয়াতুল্লাহ: আল্লাহর নিদর্শনসমূহ, প্রমাণসমূহ ও বিধানসমূহ।
নাতলূহা: আমরা তা পাঠ করি/বর্ণনা করি।
বিল-হাক্ক: সত্যতার সাথে, ন্যায়বিচারের সাথে।
যুলম: অত্যাচার, কারো হক নষ্ট করা বা অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া।
তাফসীর:
হে নবী! এই আয়াতসমূহ যা আপনার কাছে তিলাওয়াত করা হচ্ছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত স্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য প্রমাণ। এগুলো সম্পূর্ণ সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত—সংবাদে সত্য, নির্দেশে ন্যায়পরায়ণ এবং বিধানে সুবিচারপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী জানিয়ে দিচ্ছেন, যাতে মানুষ সঠিক পথ খুঁজে পায়।
আল্লাহ তায়ালা কখনো তাঁর সৃষ্টির প্রতি অত্যাচার করেন না। তিনি কারো উপর অন্যায় চাপিয়ে দেন না, কারো নেক আমল কমিয়ে দেন না, এবং কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দেন না। বরং তিনি সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারক। যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবে, সে তার প্রতিদান পাবে; আর যে মন্দ কাজ করবে, সে তার ফল ভোগ করবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রকার জুলুম বা অবিচার হওয়া অসম্ভব—এটাই তাঁর চিরন্তন বিধান ও স্বভাব।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর প্রতিটি বিধান ও নির্দেশনা সত্য এবং ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই কুরআনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
আল্লাহ কখনো অত্যাচার করেন না—এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভরসা বৃদ্ধি করে।
যেহেতু আল্লাহ ন্যায়বিচারক, তাই প্রতিটি মানুষ তার কাজের জন্য দায়ী হবে। এটি মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে।
এই আয়াত আমাদের আশ্বস্ত করে যে, দুনিয়ায় কোনো অন্যায় যদি দেখা যায়, তবে আখিরাতে আল্লাহর ন্যায়বিচারে প্রতিটি হকের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে মুমিনের অন্তর কখনো হতাশ হয় না।
সেদিন কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো। বস্তুতঃ যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে? এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের আস্বাদ গ্রহণ কর।
তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।