আন-নিসা · 109/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
هَا أَنتُمْ هَٰؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَن يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا ۝١٠٩
haaa antum haaa`ulaaa`i jaadaltum `anhum fil hayaatid dunyaa famai yujaadilul laaha `anhum Yawmal Qiyaamati am mai yakoonu `alaihim wakeelaa
📖 বাংলা অর্থ
শুনছ? তোমরা তাদের পক্ষ থেকে পার্থিব জীবনে বিবাদ করছ, অতঃপর কেয়ামতের দিনে তাদের পক্ষ হয়ে আল্লাহর সাথে কে বিবাদ করবে অথবা কে তাদের কার্যনির্বাহী হবে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • جادَلْتُمْ — তোমরা বিতর্ক করেছ, তর্ক-পাল্টা তর্ক করেছ।
  • وَكِيلًا — দায়িত্ব গ্রহণকারী, রক্ষক, সুপারিশকারী বা জামিনদার।

তفسير:

হে ঈমানদারগণ! তোমরাই তো এই দুনিয়ার জীবনে তাদের পক্ষে তর্ক-বিতর্ক করেছ, যারা নিজেদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। তোমরা তাদের নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছ এবং তাদের ওপর থেকে শাস্তি দূর করার জন্য যুক্তি-প্রমাণ পেশ করেছ। কিন্তু কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তাআলা তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত হবেন এবং তাদের ন্যায়বিচার করবেন, তখন কে তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে বিতর্ক করবে? কে এমন ব্যক্তি আছে যে সেদিন তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে বা তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবে? নিশ্চয়ই কেউ নেই। আল্লাহর বিচার অত্যন্ত ন্যায়সংগত, আর সেদিন কোনো বাতিল তর্ক বা প্রতারণা কাজে আসবে না। মানুষের উচিত দুনিয়ায় অন্যায়কে সমর্থন না করা এবং আল্লাহর বিধানকে ভয় করা, কারণ আখিরাতের দিন কোনো পার্থিব সাহায্য বা তর্ক তাদের রক্ষা করতে পারবে না।

ফায়িদা (শিক্ষা ও উপদেশ):

  1. দুনিয়ার জীবনে মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অন্যায়কারীকে সমর্থন করা যাবে না। কারণ আল্লাহর কাছে কোনো গোপন বিষয় লুকানো নেই।
  2. কিয়ামতের দিন শুধুমাত্র আল্লাহর বিচারই চূড়ান্ত হবে; সেদিন কোনো মানুষের তর্ক, সুপারিশ বা জামিনদারি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো কাজে আসবে না।
  3. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মানুষের উচিত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া। দুনিয়ার লাভ-লোকসানের চেয়ে আখিরাতের হিসাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
  4. আল্লাহর রহমত ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা — এটাই মুমিনের কর্তব্য। কেননা, আল্লাহই একমাত্র রক্ষক এবং তিনি ছাড়া আর কেউ সেদিন সাহায্য করতে পারবে না।


📜 আয়াত 107-111 — আন-নিসা

107وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا
যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।
108يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَىٰ مِنَ الْقَوْلِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا
তারা মানুষের কাছে লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় না। তিনি তাদের সাথে রয়েছেন, যখন তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে, যাতে আল্লাহ সম্মত নন। তারা যাকিছু করে, সবই আল্লাহর আয়ত্তাধীণ।
109هَا أَنتُمْ هَٰؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَن يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا
শুনছ? তোমরা তাদের পক্ষ থেকে পার্থিব জীবনে বিবাদ করছ, অতঃপর কেয়ামতের দিনে তাদের পক্ষ হয়ে আল্লাহর সাথে কে বিবাদ করবে অথবা কে তাদের কার্যনির্বাহী হবে।
110وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
যে গোনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।
111وَمَن يَكْسِبْ إِثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
যে কেউ পাপ করে, সে নিজের পক্ষেই করে। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
109আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 109

সূরা আন-নিসা আয়াত 109 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : শুনছ? তোমরা তাদের পক্ষ থেকে পার্থিব জীবনে বিবাদ করছ, অতঃপর…

সূরা আয়াত 109/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 107–111. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না