যা কিছু নভোন্ডলে আছে এবং যা কিছু ভুমন্ডলে আছে, সব আল্লাহরই। সব বস্তু আল্লাহর মুষ্ঠি বলয়ে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُحِيطًا (পরিবেষ্টনকারী/অভিভাবক): অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার জ্ঞান, ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিটি বিষয়কে সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করে আছে। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার বাইরে কিছুই নেই।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু রয়েছে—সমস্ত কিছুই তাঁর একক মালিকানাধীন। সৃষ্টি, পরিচালনা, দান-প্রতিদান—সবকিছুর একচ্ছত্র অধিকারী তিনি। কোনো কিছুই তাঁর রাজত্বের বাইরে নয় এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো কিছুই সংঘটিত হতে পারে না। তিনি চান বলেই কিছু হয়, তিনি চান না বলেই কিছু হয় না।
আর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয়কে সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করে আছেন—জ্ঞান, ক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকে। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোনো কিছু নেই, তাঁর ক্ষমতার বাইরে কোনো কিছু নেই, আর তাঁর পরিচালনার বাইরেও কোনো কিছু নেই। তিনি প্রতিটি বস্তু, প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি চিন্তা ও প্রতিটি গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তাঁর কাছ থেকে কিছুই লুকানো নেই—অণু-পরমাণু থেকে শুরু করে বিশাল মহাবিশ্ব পর্যন্ত সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
এই আয়াত আমাদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি করে যে, এই বিশাল সৃষ্টিজগতের একমাত্র মালিক আল্লাহ। তাই আমাদের উচিত শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান ও ক্ষমতার কথা স্মরণ করলে মানুষের মনে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। যখন আমরা জানি যে, আমাদের প্রতিটি কাজ, কথা এমনকি মনের গোপন চিন্তাও আল্লাহ জানেন, তখন আমরা গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারি।
এই আয়াত মুমিনের জন্য চরম প্রশান্তির বিষয়। কারণ, যখন আমরা জানি যে, সবকিছুর মালিক আল্লাহ এবং তিনি সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন, তখন আমরা জীবনের যেকোনো সংকটে তাঁর ওপর ভরসা করতে পারি। তিনি সবকিছু দেখছেন, সবকিছু জানছেন এবং তাঁর ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটছে।
এই বিশ্বাস আমাদেরকে ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করে। বিপদ-আপদে আমরা হতাশ হই না, কারণ আমরা জানি যে, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে এবং তিনি আমাদের জন্য যা কল্যাণকর তা-ই নির্ধারণ করেন।
এই আয়াত আমাদেরকে তাওহিদের (একত্ববাদের) গভীর শিক্ষা দেয়—আল্লাহ ছাড়া কোনো মালিক নেই, কোনো নিয়ন্ত্রণকারী নেই, কোনো সাহায্যকারী নেই। তাই আমাদের জীবনকে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালনা করা উচিত।
যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং ইব্রাহীমের ধর্ম অনুসরণ করে, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন, তার চাইতে উত্তম ধর্ম কার? আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
তারা আপনার কাছে নারীদের বিবাহের অনুমতি চায়। বলে দিনঃ আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে অনুমতি দেন এবং কোরআনে তোমাদেরকে যা যা পাট করে শুনানো হয়, তা ঐ সব পিতৃহীনা-নারীদের বিধান, যাদের কে তোমরা নির্ধারিত অধিকার প্রদান কর না অথচ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার বাসনা রাখ। আর অক্ষম শিশুদের বিধান এই যে, এতীমদের জন্যে ইনসাফের উপর কায়েম থাক। তোমরা যা ভাল কাজ করবে, তা আল্লাহ জানেন।
যদি কোন নারী স্বীয় স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে পরস্পর কোন মীমাংসা করে নিলে তাদের উভয়ের কোন গোনাহ নাই। মীমাংসা উত্তম। মনের সামনে লোভ বিদ্যমান আছে। যদি তোমরা উত্তম কাজ কর এবং খোদাভীরু হও, তবে, আল্লাহ তোমাদের সব কাজের খবর রাখেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।