Mal Maseehub nu Maryama illaa Rasoolun qad khalat min qablihir Rusulu wa ummuhoo siddeeqatun kaanaa yaa kulaanit ta`aam; unzur kaifa nubaiyinu lahumul Aayaati suman zur annaa yu`fakoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
মরিয়ম-তনয় মসীহ রসূল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে অনেক রসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন আর তার জননী একজন ওলী। তাঁরা উভয়েই খাদ্য ভক্ষণ করতেন। দেখুন, আমি তাদের জন্যে কিরূপ যুক্তি-প্রমাণ বর্ননা করি, আবার দেখুন, তারা উল্টা কোন দিকে যাচেছ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
मरियम के बेटे मसीह तो बस एक रसूल हैं और उनके क़ब्ल (और भी) बहुतेरे रसूल गुज़र चुके हैं और उनकी मॉ भी (ख़ुदा की) एक सच्ची बन्दी थी (और आदमियों की तरह) ये दोनों (के दोनों भी) खाना खाते थे (ऐ रसूल) ग़ौर तो करो हम अपने एहकाम इनसे कैसा साफ़ साफ़ बयान करते हैं
মরিয়ম-তনয় মসীহ রসূল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে অনেক রসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন আর তার জননী একজন ওলী। তাঁরা উভয়েই খাদ্য ভক্ষণ করতেন। দেখুন, আমি তাদের জন্যে কিরূপ যুক্তি-প্রমাণ বর্ননা করি, আবার দেখুন, তারা উল্টা কোন দিকে যাচেছ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَا الْمَسِيحُ – মসীহ (ঈসা আ.) আর কিছুই নন।
خَلَتْ – অতীত হয়ে গেছে, চলে গেছে।
صِدِّيقَةٌ – অত্যন্ত সত্যবাদিনী, দৃঢ় বিশ্বাসী।
يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ – তারা উভয়ে খাদ্য গ্রহণ করেন (অর্থাৎ মানুষের মতোই জীবনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে)।
يُؤْفَكُونَ – তারা সত্য থেকে বিমুখ হচ্ছে, বিপথগামী হচ্ছে।
তাফসীর:
মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) আল্লাহর একজন সম্মানিত রাসূল মাত্র। তিনি এমন কোনো অসাধারণ সত্তা নন যাঁকে আল্লাহর সাথে অংশীদার বা উপাস্য বানানো যায়। তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল এসেছেন এবং গত হয়েছেন; তিনি তাদেরই একজন। তাঁর মা মারইয়াম (আ.) ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদিনী ও দৃঢ় বিশ্বাসী একজন নারী। তিনি নবী-পুত্রী বা নবী-পত্নী ছিলেন না, বরং নিজের সততা ও আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থার কারণে তিনি এমন মর্যাদা পেয়েছিলেন।
আল্লাহ তাআলা এখানে একটি অকাট্য যুক্তি পেশ করেছেন—ঈসা (আ.) ও তাঁর মা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন। খাদ্যের প্রয়োজনই প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের মতোই দৈহিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। যে সত্তা খিদে পেলে খায়, পিপাসা পেলে পানি পান করে, সে কীভাবে উপাস্য হতে পারে? উপাস্য তো এমন সত্তা হবেন যিনি কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন, চিরঞ্জীব, অমর।
এরপর আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সম্বোধন করে বলছেন—চিন্তা করে দেখুন, আমি কীভাবে তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদি পেশ করছি! অথচ তারা এত স্পষ্ট প্রমাণের পরও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা নিজেদের ইচ্ছা-প্রবৃত্তির কারণে সত্যকে মেনে নিতে পারছে না। তাই তাদের অবস্থা দেখে বিস্মিত হওয়ার বিষয় যে, এত স্পষ্ট দলিলের পরও তারা কীভাবে সত্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে!
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ঈসা (আ.) ও তাঁর মা মারইয়াম (আ.) উভয়ই ছিলেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও সম্মানিত মানুষ। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ইসলামের অংশ, কিন্তু তাঁদেরকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করা বা উপাস্য বানানো সম্পূর্ণ ভুল ও শিরক।
খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা মানুষের দৈহিক সীমাবদ্ধতার প্রমাণ। যে সত্তা খাদ্যের মুখাপেক্ষী, সে কখনো উপাস্য হতে পারে না। এটি একটি সহজ-সরল কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি।
সত্যের প্রমাণ যত স্পষ্টই হোক না কেন, যার অন্তর সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়, সে তা মানবে না। তাই আমাদের উচিত অন্তরকে সত্যের প্রতি উন্মুক্ত রাখা এবং কুসংস্কার ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু—তিনি মানুষের ভুল ধারণা দূর করার জন্য এত স্পষ্টভাবে যুক্তি পেশ করেন, যেন মানুষ সঠিক পথ খুঁজে পায় এবং শিরক থেকে মুক্ত থেকে এক আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত হয়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, নবী-রাসূলগণও মানুষ ছিলেন এবং তাঁদের প্রতি অতিরঞ্জিত ভালোবাসা বা তাঁদেরকে উপাস্য বানানো ইসলামসম্মত নয়। বরং তাঁদের অনুসরণ করাই প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ।
নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলেঃ আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের উপর যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পতিত হবে।
মরিয়ম-তনয় মসীহ রসূল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে অনেক রসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন আর তার জননী একজন ওলী। তাঁরা উভয়েই খাদ্য ভক্ষণ করতেন। দেখুন, আমি তাদের জন্যে কিরূপ যুক্তি-প্রমাণ বর্ননা করি, আবার দেখুন, তারা উল্টা কোন দিকে যাচেছ।
বলুনঃ হে আহলে কিতাবগন, তোমরা স্বীয় ধর্মে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না এবং এতে ঐ সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।