অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَتَوَاصَوْا – তারা কি একে অপরকে অসিয়ত করেছে অর্থাৎ পরস্পরকে নির্দেশ দিয়েছে?
- بِهِ – এর দ্বারা অর্থ এই মিথ্যা অপবাদ ও রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপের কথা।
- طَاغُونَ – সীমালঙ্ঘনকারী, যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং অন্যায়ভাবে অত্যাচার করে।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এখানে বিস্ময় প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করছেন—পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কাফিররা কি পরস্পরকে অসিয়ত করে গেছে যে, তারা সবাই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলবে এবং একই ধরনের মিথ্যা অপবাদ রটাবে? অর্থাৎ তারা কি একে অপরের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল? অবশ্যই না! তাদের মধ্যে কোনো সময়গত সংযোগ বা পরস্পর চুক্তি ছিল না। বরং তাদের সকলকে একই পথে পরিচালিত করেছিল তাদের সীমালঙ্ঘন ও অবাধ্যতা। তাদের অন্তরগুলো কুফর ও পাপাচারে একই রকম হয়ে গিয়েছিল, তাই তাদের মুখ থেকে একই ধরনের কথা বের হয়েছে। পূর্ববর্তী কাফিররা যেমন বলেছিল, “তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি” (সূরা যারিয়াত: ৫২), পরবর্তী কাফিররাও নবী মুহাম্মদ ﷺ সম্পর্কে ঠিক একই কথা বলেছে। এটি তাদের পরস্পরের মধ্যে কোনো চুক্তির কারণে নয়, বরং তাদের সবার মধ্যে বিদ্যমান একই ধরনের পাপাচার ও আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতাই তাদেরকে এই একই কথা বলতে প্ররোচিত করেছে। তারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের মনগড়া কথা বলেছে—এটাই তাদের চরিত্র।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- কুফর ও পাপাচারের একটি সাধারণ চরিত্র রয়েছে—যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্য হয় এবং সত্য প্রত্যাখ্যান করে, সে যুগে যুগে একই ধরনের অজুহাত ও অপবাদ রটায়। তাই সত্যের দাওয়াতদাতাদের জন্য এটি আশ্বাস যে, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অপবাদ আসে, তা নতুন কিছু নয়; পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অপবাদ এসেছে।
- মানুষের অন্তর যখন পাপাচারে নিমজ্জিত হয়, তখন সে সত্যকে মেনে নিতে পারে না এবং নবী-রাসূলদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটানো তার স্বভাব হয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত নিজেদের অন্তরকে পাপ থেকে পবিত্র রাখা, যাতে আমরা সত্য গ্রহণ করার তাওফিক পাই।
- এই আয়াত থেকে আমরা ধৈর্য ও দৃঢ়তা শিখি—যখন সত্যের পথে চলার কারণে মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, তখন আমাদের হতাশ হওয়া উচিত নয়, বরং এটা বুঝতে হবে যে এটি পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। আল্লাহ তাঁর নবী-রাসূলদেরকে সর্বদা সাহায্য করেছেন এবং সত্যকে বিজয়ী করেছেন।
- ইসলামের সৌন্দর্য হলো, এটি মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান করে এবং মিথ্যা ও অপবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো সত্য বলা, সত্যের পক্ষে থাকা এবং মিথ্যা প্রচেষ্টাকে প্রতিরোধ করা, এমনকি যদি সমগ্র সমাজ তার বিরুদ্ধে যায় তবুও।
📜 আয়াত 51-55 — আজ-জারিয়াত
অনুবাদ — আজ-জারিয়াত 53
সূরা আজ-জারিয়াত আয়াত 53 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা…সূরা আয়াত 53/60 — আজ-জারিয়াত الذاريات (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আজ-জারিয়াত শুনুন, আজ-জারিয়াত অনুবাদ, আজ-জারিয়াত mp3, আজ-জারিয়াত pdf. আয়াত 51–55. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








