আল-আরাফ · 190/206
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আরাফ
فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا ۚ فَتَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ۝١٩٠
Falammaaa aataahumaa saalihan ja`alaa lahoo shurakaaa`a feemaaa aataahumaa; fata`aalal laahu `ammaa yushrikoon
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও ভাল দান করা হল, তখন দানকৃত বিষয়ে তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের শরীক সাব্যস্ত করা থেকে বহু উর্ধে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • صَالِحًا — সুস্থ-সবল, পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত সন্তান।
  • شُرَكَاءَ — অংশীদার, শরিক।
  • فَتَعَالَى اللهُ — আল্লাহ অতি পবিত্র, তিনি সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত।

তাফসীর:

যখন আল্লাহ তাআলা আদম ও হাওয়া (আ.)-এর দু‘আ কবুল করে তাদেরকে একটি সুস্থ-সবল, পূর্ণাঙ্গ সন্তান দান করলেন, তখন তারা আল্লাহর এই দানকে শুকরিয়া আদায় করার পরিবর্তে সেই সন্তানের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করল। অর্থাৎ, তারা সন্তানকে এমন নামে ডাকল যা আল্লাহর গোলামি ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করে। কেউ কেউ সন্তানের নাম রাখল ‘আবদুল হারিস’ (অর্থাৎ হারিসের গোলাম), যা শয়তানের প্ররোচনায় তারা করেছিল। অথচ এই সন্তান তো সম্পূর্ণ এককভাবে আল্লাহই দান করেছেন—এতে কারো কোনো অংশীদারিত্ব নেই।

তারা যে শিরক করেছিল তা ছিল মূলত নামকরণ ও আচরণগত শিরক, বিশ্বাসগত নয়। অর্থাৎ, তারা আল্লাহকে রব ও ইলাহ হিসেবে বিশ্বাস করত, কিন্তু শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে সন্তানের নামকরণে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দিকে সম্পর্ক যুক্ত করেছিল। পরবর্তীকালে তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকৃত শিরকে লিপ্ত হয়—মূর্তি পূজা, নবী-ওলিদের কাছে দো‘আ করা ইত্যাদি। এ কারণেই আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, “আল্লাহ অতি পবিত্র, তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত।”

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি একক স্রষ্টা, একক রিজিকদাতা, একক ইলাহ। তাঁর কোনো শরিক নেই—না সৃষ্টিতে, না রিজিকে, না ইবাদতে, না নামকরণে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর প্রতিটি নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁকেই একমাত্র দাতা হিসেবে স্বীকার করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
  2. সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশাল নেয়ামত। এই নেয়ামতের শুকরিয়া হলো সন্তানকে আল্লাহর গোলামি ও আনুগত্যের পথে গড়ে তোলা এবং তাকে ইসলামসম্মত সুন্দর নাম রাখা।
  3. নামকরণের মাধ্যমেও শিরক হতে পারে। তাই সন্তানের নাম এমন রাখা উচিত যা আল্লাহর দাসত্ব প্রকাশ করে, যেমন ‘আবদুল্লাহ’, ‘আবদুর রহমান’ ইত্যাদি। এমন নাম রাখা নিষিদ্ধ যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব বোঝায়।
  4. শয়তান মানুষের জন্য চিরশত্রু। সে সুযোগ পেলেই মানুষকে বিপথগামী করার চেষ্টা করে। তাই সর্বদা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আল্লাহর কাছে হেফাজত চাইতে হবে।
  5. আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের শিরক থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত। তিনি এককভাবে ইবাদতের যোগ্য। তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা জঘন্যতম অপরাধ।
  6. ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক শুধু মূর্তিপূজা বা অন্য দেবতার পূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নামকরণ, আচার-আচরণ এমনকি নিয়তের মাধ্যমেও শিরক হতে পারে। তাই প্রতিটি কাজে আল্লাহর একত্ববাদকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।


📜 আয়াত 188-192 — সূরা আল-আরাফ

188قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ ۚ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।
189۞ هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا ۖ فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ ۖ فَلَمَّا أَثْقَلَت دَّعَوَا اللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا لَّنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।
190فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا ۚ فَتَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও ভাল দান করা হল, তখন দানকৃত বিষয়ে তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের শরীক সাব্যস্ত করা থেকে বহু উর্ধে।
191أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ
তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
192وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ
আর তারা, না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে পারে।
আল-আরাফকুরআন সূচী
206আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
190আয়াত

অনুবাদ — আল-আরাফ 190

সূরা আল-আরাফ আয়াত 190 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও ভাল দান করা হল, তখন…

সূরা আয়াত 190/206 — সূরা আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আরাফ শুনুন, সূরা আল-আরাফ অনুবাদ, সূরা আল-আরাফ mp3, সূরা আল-আরাফ pdf. আয়াত 188–192. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না