তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَيُشْرِكُونَ – তারা কি শরীক করে?
مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا – এমন বস্তুকে যা কিছুই সৃষ্টি করে না।
وَهُمْ يُخْلَقُونَ – অথচ তারা নিজেরাই সৃষ্ট।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন। তারা এমন বস্তুকে আল্লাহর সাথে শরীক করে, যারা কোনো কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে না—না কোনো জীব, না কোনো বস্তু, না কোনো উপকার বা অপকার। বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট, তাদের অস্তিত্বই আল্লাহর সৃষ্টিশক্তির উপর নির্ভরশীল। তারা পাথর, কাঠ বা ধাতুর তৈরি মূর্তি, অথবা জিন, শয়তান বা অন্য কোনো সৃষ্টজীবকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে—অথচ এদের কেউই নিজের সত্তা তৈরি করতে পারেনি, নিজের জীবন, রিজিক বা মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাহলে কীভাবে তারা আল্লাহর সাথে শরীক হতে পারে? যে সৃষ্ট, সে স্রষ্টার সমকক্ষ হতে পারে না। এই প্রশ্নটি তাদের বুদ্ধি-বিবেককে চ্যালেঞ্জ করে এবং প্রমাণ করে যে, শিরক সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত পথ।
ফায়দা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইবাদত ও উপাসনার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ, যিনি সবকিছুর স্রষ্টা। যারা সৃষ্ট, তারা কখনো ইবাদতের যোগ্য হতে পারে না।
এটি আমাদেরকে তাওহীদের (একত্ববাদের) প্রতি আহ্বান জানায় এবং শিরক থেকে সতর্ক করে, যা ইসলামের সবচেয়ে বড় গুনাহ।
আয়াতটি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে—যে ব্যক্তি নিজে অসহায়, সে কীভাবে অন্যকে সাহায্য করবে বা উপাস্য হবে? তাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁরই ইবাদত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে, কারণ তিনি এমন এক স্রষ্টা যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই একমাত্র উপাস্য।
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।