আর কা’বার নিকট তাদের নামায বলতে শিস দেয়া আর তালি বাজানো ছাড়া অন্য কোন কিছুই ছিল না। অতএব, এবার নিজেদের কৃত কুফরীর আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُكَاءً (মুকা): মুখ দিয়ে সিঁটি দেওয়া বা শিস দেওয়া।
تَصْدِيَةً (তাসদিয়াহ): হাততালি দেওয়া বা করতালি দেওয়া।
الْبَيْتِ (আল-বাইত): এখানে কাবা ঘর বা মসজিদে হারাম।
তাফসির:
মক্কার মুশরিকরা যখন বাইতুল্লাহ বা কাবা ঘরের কাছে আসত, তখন তারা নামাজ বা ইবাদতের নামে যা করত তা ছিল সম্পূর্ণ উপহাসমূলক। তারা মুখ দিয়ে শিস দিত এবং হাতে হাততালি দিত। তাদের এই আচরণ ছিল নবী করিম (সা.)-এর প্রতি বিদ্রূপ ও উপহাসের অংশ। তারা মনে করত এতে করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াত ও নামাজের গুরুত্ব কমে যাবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের অজ্ঞতা ও মূর্খতাই প্রকাশ করছিল।
আল্লাহ তাআলা তাদের এই আচরণের পরিণতি সম্পর্কে বলেন, “তোমরা এই শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।” এই শাস্তি হলো বদর যুদ্ধের দিন তাদের কতিপয়ের হত্যা ও কতিপয়ের বন্দি হওয়া। এই শাস্তি তাদের কুফরি ও সত্যকে অস্বীকার করার কারণে এসেছিল। তারা কুফরি করেছিল বিশ্বাসের মাধ্যমে, আবার কুফরি করেছিল কর্মের মাধ্যমেও—যেমন কাবা ঘরে উপহাসমূলক আচরণ করা।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর ঘর বা যেকোনো ইবাদতের স্থানকে সম্মান করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। সেখানে উপহাস বা খেল-তামাশা করা মারাত্মক গুনাহ।
সত্যের বিরুদ্ধে উপহাস ও বিদ্রূপ কখনো সত্যকে দুর্বল করতে পারে না; বরং তা করে উপহাসকারীরাই অপমানিত হয়।
আল্লাহ তাআলা অত্যাচারী ও কাফিরদের শাস্তি দেন, যদিও তা কিছু সময়ের জন্য বিলম্বিত হয়। বদরের দিন মুশরিকদের শাস্তি এর প্রমাণ।
নামাজ ও ইবাদতের প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহর কাছে বিনয়ী হওয়া, মনোযোগী হওয়া এবং তাকে স্মরণ করা। যে ইবাদত উপহাসের মতো হয়, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামের শত্রুরা যতই চক্রান্ত করুক না কেন, আল্লাহ তার নবী ও মুমিনদের সাহায্য করেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।
আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে-হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা পরহেযগার। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়।
নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফের, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুতঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফের তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
যাতে পৃথক করে দেন আল্লাহ অপবিত্র ও না-পাককে পবিত্র ও পাক থেকে। আর যাতে একটির পর একটিকে স্থাপন করে সমবেত স্তুপে পরিণত করেন এবং পরে দোযখে নিক্ষেপ করেন। এরাই হল ক্ষতিগ্রস্ত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।