আল-কাহফ · 87/110
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-কাহফ
قَالَ أَمَّا مَن ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَىٰ رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُّكْرًا ۝٨٧
Qaala amaa man zalama fasawfa nu`azzibuhoo summa yuraddu ilaa Rabbihee fa yu `azzibuhoo azaaban nukraa
📖 বাংলা অর্থ
তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ظَلَمَ – অত্যাচার করা, সীমালঙ্ঘন করা; এখানে শিরক ও কুফরির মাধ্যমে নিজের ওপর অত্যাচার করাকে বোঝানো হয়েছে।
  • نُكْرًا – অত্যন্ত কঠিন, ভয়ংকর ও অপরিচিত ধরনের শাস্তি; এমন শাস্তি যা কল্পনাতীত ও অসহনীয়।

তাফসীর:

হযরত যুলকারনাইন (আলাইহিস সালাম) যখন জাতির প্রতি আহ্বান জানালেন যে, যে ঈমান আনবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং যে কুফরি করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, তখন তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন: “যে ব্যক্তি নিজের ওপর জুলুম করেছে—অর্থাৎ আল্লাহর সাথে শিরক করেছে এবং সত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করে কুফরির ওপর অটল থেকেছে—আমি তাকে দুনিয়াতেই শাস্তি দেব।” এই শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড বা যুদ্ধে হত্যা, যা ছিল সে সময়ের প্রচলিত ও উপযুক্ত শাস্তি। এরপর কিয়ামতের দিন সে তার রবের কাছে ফিরে যাবে এবং আল্লাহ তাকে এমন ভয়ংকর ও কঠিন শাস্তি দেবেন যা কোনোভাবেই বর্ণনা করা সম্ভব নয়—জাহান্নামের আগুনের শাস্তি, যা চিরস্থায়ী ও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। অর্থাৎ দুনিয়ার শাস্তি ছিল সাময়িক, কিন্তু আখিরাতের শাস্তি হবে স্থায়ী ও অকল্পনীয় কঠিন। যুলকারনাইন এখানে স্পষ্ট করে দিলেন যে, তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব শুধু দুনিয়ার সীমার মধ্যে; প্রকৃত বিচার ও চূড়ান্ত প্রতিদান আল্লাহরই হাতে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা একজন শাসকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যুলকারনাইনের ঘোষণা আমাদের শেখায় যে, অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো ইসলামের মৌলিক নীতি।
  2. দুনিয়ার শাস্তি যত কঠিনই হোক না কেন, আখিরাতের শাস্তি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
  3. শিরক ও কুফরি হলো সবচেয়ে বড় জুলুম, কারণ এটি আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করার মাধ্যমে তাঁর অধিকার লঙ্ঘন করে এবং নিজের আত্মার ওপর চরম অত্যাচার করে।
  4. ইসলামে দয়া ও ক্ষমার পাশাপাশি কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে, যাতে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং অন্যায়কারীরা সাহস না পায়।
  5. প্রতিটি মানুষের জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া। তাই দুনিয়ার যেকোনো অবস্থা হোক না কেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং তাঁর শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 85-89 — আল-কাহফ

85فَأَتْبَعَ سَبَبًا
অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন।
86حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَمِئَةٍ وَوَجَدَ عِندَهَا قَوْمًا ۗ قُلْنَا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِمَّا أَن تُعَذِّبَ وَإِمَّا أَن تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًا
অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।
87قَالَ أَمَّا مَن ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَىٰ رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُّكْرًا
তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।
88وَأَمَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ جَزَاءً الْحُسْنَىٰ ۖ وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا
এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব।
89ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا
অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।
আল-কাহফকুরআন সূচী
110আয়াত
মাক্কীRevelation
87আয়াত

অনুবাদ — আল-কাহফ 87

সূরা আল-কাহফ আয়াত 87 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব।…

সূরা আয়াত 87/110 — আল-কাহফ الكهف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-কাহফ শুনুন, আল-কাহফ অনুবাদ, আল-কাহফ mp3, আল-কাহফ pdf. আয়াত 85–89. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না