ত্ব-হা · 119/135
অনুবাদ উচ্চারণ — ত্ব-হা
وَأَنَّكَ لَا تَظْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَىٰ ۝١١٩
Wa annaka laa tazma`u feehaa wa laa tadhaa
📖 বাংলা অর্থ
এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَا تَظْمَأُ — তুমি তৃষ্ণার্ত হবে না, পিপাসিত হবে না।
  • وَلَا تَضْحَى — এবং তুমি রোদে পুড়বে না, সূর্যের তাপে কষ্ট পাবে না। (আরবিতে ‘ضَحًا’ বলা হয় সূর্যের তাপে শরীরকে প্রকাশ করা বা রোদে পোড়াকে)

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-কে জান্নাতের সেই সুখময় অবস্থার আরেকটি নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে— “আর নিশ্চয়ই তুমি সেখানে (জান্নাতে) কখনো পিপাসার্ত হবে না এবং সূর্যের প্রখর তাপেও ক্লান্ত হবে না।” অর্থাৎ, জান্নাতের জীবন হবে সম্পূর্ণ আরামদায়ক ও কষ্টমুক্ত। সেখানে কোনো তৃষ্ণা নেই, কোনো ক্ষুধা নেই (পূর্বের আয়াতে উল্লেখ হয়েছে), আর নেই কোনো দাবদাহ বা রোদের প্রখরতা। জান্নাতের পরিবেশ হবে চিরসবুজ, শীতল ও ছায়াঘেরা— যেখানে সূর্যের কোনো উত্তাপই অনুভূত হবে না। বস্তুত, জান্নাতের প্রতিটি নেয়ামতই হবে নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত, যেখানে মানুষের শরীর বা মনের কোনো কষ্টই থাকবে না। এটি ছিল আদম (আঃ)-এর জন্য আল্লাহর বিশেষ প্রতিশ্রুতি, যা তাঁকে জান্নাতের মর্যাদা ও শান্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছিল।

ফায়েদা (শিক্ষা ও উপকারিতা):

  1. জান্নাতের বর্ণনা শুনলে মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। জান্নাত এমন এক জায়গা যেখানে মানুষের সব চাহিদা পূরণ হবে এবং কোনো প্রকার কষ্ট, ক্লান্তি বা অস্বস্তি থাকবে না।
  2. দুনিয়ার জীবনে মানুষ নানা কষ্ট, রোগ-শোক, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় জর্জরিত থাকে; কিন্তু আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য এমন স্থান তৈরি করে রেখেছেন যেখানে এসবের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। এতে মুমিনের ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা বৃদ্ধি পায়।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত সুখ ও শান্তি কেবল আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর পথে চলার মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব। আদম (আঃ)-কে যখন জান্নাতে রাখা হয়েছিল, তখন তাঁকে সব রকমের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া হয়েছিল— কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় একটিমাত্র নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েই তিনি সেই সুখ হারিয়েছিলেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, যাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় আমরা আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত লাভ করতে পারি।


📜 আয়াত 117-121 — ত্ব-হা

117فَقُلْنَا يَا آدَمُ إِنَّ هَٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَىٰ
অতঃপর আমি বললামঃ হে আদম, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন বের করে না দেয় তোমাদের জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে।
118إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَىٰ
তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে না।
119وَأَنَّكَ لَا تَظْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَىٰ
এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।
120فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَىٰ
অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?
121فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ ۚ وَعَصَىٰ آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَىٰ
অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথ ভ্রষ্ঠ হয়ে গেল।
ত্ব-হাকুরআন সূচী
135আয়াত
মাক্কীRevelation
119আয়াত

অনুবাদ — ত্ব-হা 119

সূরা ত্ব-হা আয়াত 119 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।

সূরা আয়াত 119/135 — ত্ব-হা طه (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ত্ব-হা শুনুন, ত্ব-হা অনুবাদ, ত্ব-হা mp3, ত্ব-হা pdf. আয়াত 117–121. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না