আল-আম্বিয়া · 42/112
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আম্বিয়া
قُلْ مَن يَكْلَؤُكُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَٰنِ ۗ بَلْ هُمْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِم مُّعْرِضُونَ ۝٤٢
Qul mai yakla `ukum billaili wannahaari minar Rahmaan; bal hum `an zikri Rabbihim mu`ridoon
📖 বাংলা অর্থ
বলুনঃ ‘রহমান’ থেকে কে তোমাদেরকে হেফাযত করবে রাত্রে ও দিনে। বরং তারা তাদের পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَكْلَؤُكُم — তোমাদেরকে রক্ষা করে, হিফাজত করে।
  • مِنَ الرَّحْمٰنِ — দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে (আসা আযাব বা শাস্তি থেকে)।
  • ذِكْرِ رَبِّهِم — তাদের রবের উপদেশ, কুরআন ও নসীহত।
  • مُعْرِضُونَ — মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, উদাসীন ও বিমুখ।

তাফসির:

হে নবী! আপনি এই আযাব ত্বরান্বিতকারী ও উপহাসকারীদের জিজ্ঞেস করুন: রাত ও দিনে, তোমাদের ঘুমে বা জাগরণে, কে তোমাদেরকে দয়াময় আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে? যদি তিনি তোমাদের উপর কোনো বিপদ বা ধ্বংস নাযিল করতে চান, তবে কে তোমাদেরকে তা থেকে বাঁচাতে পারবে? কোনো শক্তিই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করতে সক্ষম নয়। অথচ তারা এত বড় সত্য থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন! তারা তাদের রবের কুরআন, উপদেশ ও প্রমাণসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, বরং অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে তা অবহেলা করে। তারা আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর নির্দেশকে একেবারে গুরুত্ব দেয় না, ফলে তারা নিজেদের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহই একমাত্র রক্ষাকর্তা। তিনি ছাড়া অন্য কেউ কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে না। তাই বান্দার উচিত সবসময় আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া।
  2. যারা আল্লাহর আযাবকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে। তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদের রক্ষা করার মতো কেউ নেই।
  3. কুরআন ও আল্লাহর জিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। এতে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং নিজের অজান্তেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, রাত-দিন, ঘুমে-জাগরণে সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর নির্দেশ মেনে চলা উচিত। কারণ আমরা সবসময় তাঁর হিফাজতে আছি, তাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া এবং তাঁর আনুগত্য করা আমাদের কর্তব্য।
  5. আল্লাহর রহমত ও দয়া অপরিসীম, কিন্তু তাঁর শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর। বান্দার উচিত তাঁর রহমতের আশা করা এবং শাস্তি থেকে বাঁচতে তাঁর আদেশ পালন করা।


📜 আয়াত 40-44 — আল-আম্বিয়া

40بَلْ تَأْتِيهِم بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ
বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।
41وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
আপনার পূর্বেও অনেক রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছে। অতঃপর যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা করত তা উল্টো ঠাট্টাকারীদের উপরই আপতিত হয়েছে।
42قُلْ مَن يَكْلَؤُكُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَٰنِ ۗ بَلْ هُمْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِم مُّعْرِضُونَ
বলুনঃ ‘রহমান’ থেকে কে তোমাদেরকে হেফাযত করবে রাত্রে ও দিনে। বরং তারা তাদের পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
43أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُم مِّن دُونِنَا ۚ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنفُسِهِمْ وَلَا هُم مِّنَّا يُصْحَبُونَ
তবে কি আমি ব্যতীত তাদের এমন দেব-দেবী আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা আমার মোকাবেলায় সাহায্যকারীও পাবে না।
44بَلْ مَتَّعْنَا هَٰؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ ۗ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا ۚ أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ
বরং আমি তাদেরকে এবং তাদের বাপ-দাদাকে ভোগসম্বার দিয়েছিলাম, এমনকি তাদের আয়ুস্কালও দীর্ঘ হয়েছিল। তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের দেশকে চতুর্দিক থেকে হ্রাস করে আনছি। এরপরও কি তারা বিজয়ী হবে?
আল-আম্বিয়াকুরআন সূচী
112আয়াত
মাক্কীRevelation
42আয়াত

অনুবাদ — আল-আম্বিয়া 42

সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুনঃ ‘রহমান’ থেকে কে তোমাদেরকে হেফাযত করবে রাত্রে ও দিনে।…

সূরা আয়াত 42/112 — আল-আম্বিয়া الأنبياء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আম্বিয়া শুনুন, আল-আম্বিয়া অনুবাদ, আল-আম্বিয়া mp3, আল-আম্বিয়া pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না