আশ-শুআরা · 199/227
অনুবাদ উচ্চারণ — আশ-শুআরা
فَقَرَأَهُ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ ۝١٩٩
Faqara ahoo `alaihim maa kaanoo bihee mu`mineen
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَقَرَأَهُ عَلَيْهِمْ — অতঃপর সে তা তাদের কাছে পাঠ করত।
  • مَا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ — তারা তাতে বিশ্বাসকারী হতো না।

তাফসীর:

আয়াতটি প্রসঙ্গত বলছে—যদি আমি এই কুরআন এমন এক ব্যক্তির কাছে নাযিল করতাম যে আরবি ভাষায় কথা বলে না, এবং সে তা কুরাইশদের কাছে স্পষ্ট আরবি ভাষায় পাঠ করত, তবুও তারা তা বিশ্বাস করত না। কারণ তাদের অবিশ্বাসের মূল কারণ ছিল না ভাষাগত জটিলতা বা বোধগম্যতার অভাব; বরং তাদের অন্তর ছিল অহংকার ও জিদে পরিপূর্ণ। তারা নিজেদের অজুহাত দেখানোর জন্য বলত, "আমরা তো এর ভাষা বুঝি না"—যদিও প্রকৃতপক্ষে তাদের সমস্যা ছিল মানসিক প্রস্তুতি ও সত্য গ্রহণের ইচ্ছার অভাব।

তাদের কাছে কুরআন তাদের নিজস্ব ভাষায় এসেছে, যা তারা পুরোপুরি বোঝে, তবুও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং ভাষা পরিবর্তন করলেই তাদের বিশ্বাস আসত না। বরং আল্লাহ তাদের অন্তরে কুফরি ও জিদ এমনভাবে গেঁথে দিয়েছেন যে, তারা সত্যকে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে সবসময় নতুন অজুহাত খুঁজত। তাদের এই অবস্থা থেকে ফিরে আসার কোনো পথ নেই, যতক্ষণ না তারা সেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিজ চোখে দেখে, যা তাদের জন্য নির্ধারিত।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. হেদায়াত লাভের মূল চাবিকাঠি হলো অন্তরের পবিত্রতা ও সত্য গ্রহণের আগ্রহ। ভাষা, জাতি বা পরিবেশ কোনো বাধা নয়—যদি মানুষ সত্য খুঁজতে চায়, আল্লাহ তাকে পথ দেখান।
  2. কুরআনের ভাষা আরবি হওয়া মুসলিম উম্মাহর জন্য বিরাট রহমত, কারণ এটি সংরক্ষিত ও অপরিবর্তনীয়। আমাদের উচিত এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা।
  3. জিদ ও অহংকার মানুষকে সত্য থেকে দূরে রাখে। যে ব্যক্তি সত্যকে মেনে নিতে চায় না, তার কাছে যত প্রমাণই আসুক না কেন, সে তা প্রত্যাখ্যান করবেই।
  4. আল্লাহর কিতাবের প্রতি ঈমান আনা প্রতিটি মানুষের নিজস্ব দায়িত্ব। কেউ অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারে না, কারণ আল্লাহ প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের ভাষায় বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
  5. কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে অন্তর আলোকিত হয়। যে অন্তর কুরআনের আলো থেকে বঞ্চিত, সে প্রকৃত অর্থেই অন্ধকারে থাকে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 197-201 — আশ-শুআরা

197أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ آيَةً أَن يَعْلَمَهُ عُلَمَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ
তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী-ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?
198وَلَوْ نَزَّلْنَاهُ عَلَىٰ بَعْضِ الْأَعْجَمِينَ
যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
199فَقَرَأَهُ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ
অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
200كَذَٰلِكَ سَلَكْنَاهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ
এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
201لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ حَتَّىٰ يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ
তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।
আশ-শুআরাকুরআন সূচী
227আয়াত
মাক্কীRevelation
199আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুআরা 199

সূরা আশ-শুআরা আয়াত 199 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে…

সূরা আয়াত 199/227 — আশ-শুআরা الشعراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুআরা শুনুন, আশ-শুআরা অনুবাদ, আশ-শুআরা mp3, আশ-শুআরা pdf. আয়াত 197–201. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না