আন-নিসা · 132/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا ۝١٣٢
Wa lillaahi maa fis samaawaati wa maa fil ard; wa kafaa billaahi Wakeelaa
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহরই জন্যে সে সবকিছু যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে। আল্লাহই যথেষ্ট কর্মবিধায়ক।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَكِيلًا — অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক, দায়িত্বভার গ্রহণকারী, রক্ষক।

তাফসীর:

আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু রয়েছে—সমস্ত কিছুই আল্লাহ তা‘আলার। তিনি এককভাবে এ সমগ্র বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা, মালিক, পরিচালক ও রক্ষক। তাঁর রাজত্ব ও কর্তৃত্বের কোনো অংশে কারো কোনো অংশীদারিত্ব নেই। তিনি ছাড়া আর কারো হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া একটি পাতাও নড়তে পারে না, একটি প্রাণীও শ্বাস নিতে পারে না।

আর আল্লাহ তা‘আলাই তাঁর বান্দাদের জন্য যথেষ্ট অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক। যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ভরসা করে এবং তাঁরই ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। তিনি তাঁর বান্দাদের সকল বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তাদের রক্ষা করেন, তাদের প্রয়োজন পূরণ করেন এবং তাদের শত্রুদের মোকাবিলায় তাদের সাহায্য করেন। তাই মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপরই ভরসা করা, অন্য কারো ওপর নয়। কারণ যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের মালিক, তিনিই তো প্রকৃত অভিভাবক ও রক্ষক হওয়ার সবচেয়ে যোগ্য।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. এ আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, এ বিশ্বজগতের একমাত্র মালিক ও শাসক আল্লাহ। তাই আমাদের সকল বিষয়ে তাঁরই নির্দেশ মেনে চলা উচিত এবং তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
  2. মুমিনের জীবনে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা একটি অপরিহার্য গুণ। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাকে কখনো হতাশ করেন না এবং তার জন্য যথেষ্ট হন।
  3. জীবনের যেকোনো সংকটে, যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের প্রথমে আল্লাহর দিকেই ফিরতে হবে। মানুষের ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর নির্ভর করাই হলো সফলতার চাবিকাঠি।
  4. এ আয়াত মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন আমরা জানি যে, সমগ্র বিশ্বের মালিক আমাদের অভিভাবক, তখন আর কোনো ভয় বা চিন্তা থাকে না।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 130-134 — আন-নিসা

130وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِّن سَعَتِهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا
যদি উভয়েই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ স্বীয় প্রশস্ততা দ্বারা প্রত্যেককে অমুখাপেক্ষী করে দিবেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত, প্রজ্ঞাময়।
131وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ ۚ وَإِن تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدًا
আর যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে সবই আল্লাহর। বস্তুতঃ আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থের অধিকারীদেরকে এবং তোমাদেরকে যে, তোমরা সবাই ভয় করতে থাক আল্লাহকে। যদি তোমরা তা না মান, তবে জেনো, সে সব কিছুই আল্লাহ তা’আলার যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে। আর আল্লাহ হচ্ছেন অভাবহীন, প্রসংশিত।
132وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا
আর আল্লাহরই জন্যে সে সবকিছু যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে। আল্লাহই যথেষ্ট কর্মবিধায়ক।
133إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ وَيَأْتِ بِآخَرِينَ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ قَدِيرًا
হে মানবকূল, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সরিয়ে তোমাদের জায়গায় অন্য কাউকে প্রতিষ্ঠিত করেন? বস্তুতঃ আল্লাহর সে ক্ষমতা রয়েছে।
134مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِندَ اللَّهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর আল্লাহ সব কিছু শোনেন ও দেখেন।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
132আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 132

সূরা আন-নিসা আয়াত 132 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর আল্লাহরই জন্যে সে সবকিছু যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে…

সূরা আয়াত 132/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 130–134. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না