তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছ, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেই বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَحْكُمُ – বিচার করবেন, ফয়সালা দেবেন।
تَخْتَلِفُونَ – তোমরা মতবিরোধ করছিলে।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা মুমিন ও কাফির, সকল বান্দার মধ্যে কিয়ামতের দিন চূড়ান্ত ফয়সালা করবেন। দুনিয়ায় মানুষ ধর্ম ও সত্য বিষয়ে যে মতবিরোধ করত—কে সঠিক পথে ছিল আর কে ভ্রান্ত পথে ছিল—সে সম্পর্কে সেদিন আল্লাহর বিচারই হবে চূড়ান্ত। সেদিন সত্য-মিথ্যা, হক-বাতিল সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং প্রত্যেকে তার কর্মফল পাবে। এই আয়াতে বিতর্ককারীদের প্রতি উত্তম আচরণ ও ধৈর্যের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে—যখন কেউ হঠকারিতাপূর্ণ ও অহংকারবশত তর্ক করে, তখন তার সাথে উত্তম পদ্ধতিতে কথা বলা এবং বিষয়টি আল্লাহর বিচারের উপর ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয়। কারণ, দুনিয়ার তর্ক-বিতর্কে কেউ কারো মন পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর বিচারই প্রকৃত ও ন্যায়সঙ্গত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে তা সমাধানের জন্য আল্লাহর বিচারকেই চূড়ান্ত মানতে হবে, কারণ তিনিই সর্বজ্ঞ ও ন্যায়বিচারক।
বিতর্ক ও তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
কিয়ামতের দিনই প্রকৃত সত্য-মিথ্যা প্রকাশ পাবে, তাই দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জয়-পরাজয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
এই আয়াত মুমিনদের মনে এই আশ্বাস দেয় যে, অন্যায় ও ভ্রান্তি দুনিয়ায় যতই প্রভাবশালী মনে হোক না কেন, আল্লাহর ন্যায়বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে এবাদতের একটি নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আপনি তাদেরকে পালনকর্তার দিকে আহবান করুন। নিশ্চয় আপনি সরল পথেই আছেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।