الْعَزِيزُ – পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না।
الْحَكِيمُ – প্রজ্ঞাময়, যাঁর সকল কাজ হিকমত ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে।
তাফসির:
তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে মাতৃগর্ভে আকৃতি দান করেন—তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী। তিনি চান তো তোমাদেরকে পুরুষ বানান, চান তো নারী; চান তো সুন্দর, চান তো কম সুন্দর; চান তো সাদা, চান তো কালো; চান তো সৌভাগ্যবান, চান তো হতভাগ্য। এ সবকিছুই ঘটে তাঁর পূর্ণ ইচ্ছা ও ক্ষমতায়, কোনো প্রকার বাধা বা প্রতিরোধ ছাড়াই। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী—যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না, এবং প্রজ্ঞাময়—তাঁর সৃষ্টি, পরিচালনা ও বিধানে পরিপূর্ণ হিকমত রয়েছে।
এই আয়াতটি নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধিদলের বক্তব্যের জবাবে অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা বলেছিল যে, ঈসা (আঃ) আল্লাহর পুত্র অথবা স্বয়ং আল্লাহ। অথচ যিনি মাতৃগর্ভে আকৃতি লাভ করেন এবং ধাপে ধাপে বিকশিত হন, তিনি কীভাবে আল্লাহ বা আল্লাহর পুত্র হতে পারেন? আল্লাহ তো চিরন্তন, অমুখাপেক্ষী, অপরিবর্তনীয় সত্তা। পক্ষান্তরে, মাতৃগর্ভে গঠিত প্রতিটি মানুষই আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মাতৃগর্ভে সন্তানের আকৃতি, লিঙ্গ, রূপ-সৌন্দর্য ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণে—এটি আমাদেরকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দেয় এবং তাঁর প্রতি বিনয়ী হতে শেখায়।
এই আয়াত আমাদেরকে শুকরিয়া আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে—আমরা যে সুস্থ-সবল ও সুন্দর আকৃতিতে জন্মেছি, তা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
মানুষের জীবনের শুরু মাতৃগর্ভে আল্লাহর গঠন-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের অস্তিত্ব আল্লাহর ইচ্ছা ও সৃষ্টির ফল, তাই আমাদের জীবনও তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত।
আল্লাহর ‘আযীয’ ও ‘হাকীম’ গুণ দুটি আমাদের শেখায়—তিনি যেমন পরাক্রমশালী, তেমনি তাঁর প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞাপূর্ণ; তাই তাঁর বিধান মেনে চলাই আমাদের জন্য কল্যাণকর।
এই আয়াত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে খ্রিস্টানদের ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করে এবং তাওহীদের স্পষ্ট বার্তা প্রদান করে—আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র।
নাযিল করেছেন তাওরত ও ইঞ্জিল, এ কিতাবের পূর্বে, মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং অবতীর্ণ করেছেন মীমাংসা। নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।
হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।