حَنِيفًا — একনিষ্ঠভাবে সকল বাতিল ধর্ম থেকে বিমুখ হয়ে একমাত্র আল্লাহর দিকে মুখ করে।
مِنَ الْمُشْرِكِينَ — মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি তাদেরকে বলুন, “আল্লাহ সত্য বলেছেন” — তিনি যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন এবং যা কিছু বিধান দিয়েছেন, সবকিছুতে তিনি সত্য। ইয়াকূব (আঃ) সম্পর্কে যে ঘোষণা এসেছে তাও সম্পূর্ণ সত্য। অতএব, যদি তোমরা সত্যিই ইবরাহীম (আঃ)-কে ভালোবাসো এবং তার অনুসারী হতে চাও, তাহলে তার সেই মিল্লাতের অনুসরণ করো যা আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন — অর্থাৎ ইসলাম। কেননা ইবরাহীম (আঃ)-এর ধর্মই হলো ইসলামের মূল ধারা; তিনি ছিলেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতকারী, সকল শিরক ও বাতিল পথ থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ। তিনি কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেননি, আর তার উম্মতের মধ্যে যারা শিরক করেছে তারা তার প্রকৃত অনুসারী ছিল না। সুতরাং প্রকৃত ইবরাহীমী আদর্শের দাবি হলো — তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং শিরক থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
ফায়দা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর সত্যবাদিতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে এবং তাঁর প্রতিটি বিধানকে নিঃশর্তভাবে মেনে নিতে হবে।
ইবরাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতই হলো প্রকৃত দ্বীন — আর তা হলো তাওহীদ ও ইসলাম। যে ব্যক্তি এই পথে থাকে সে-ই তার প্রকৃত উত্তরসূরি।
শিরক এমন একটি জঘন্য অপরাধ যা ইবরাহীম (আঃ)-এর আদর্শ থেকে মানুষকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য — শিরক ও সকল প্রকার বাতিল বিশ্বাস থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা।
ভালোবাসার দাবি শুধু মুখে নয়, বরং ভালোবাসার প্রমাণ হলো সেই ব্যক্তির পথের অনুসরণ করা যাকে ভালোবাসা হয়। ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ হলো তার একনিষ্ঠ তাওহীদী পথে চলা।
তওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইয়াকুব যেগুলো নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন, সেগুলো ব্যতীত সমস্ত আহার্য বস্তুই বনী-ইসরায়ীলদের জন্য হালাল ছিল। তুমি বলে দাও, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। তাহলে তওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ কর।
এতে রয়েছে মকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে, লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থ?2480;য়েছে এ পর্যন্ত পৌছার। আর যে লোক তা মানে না। আল্লাহ সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।