সাবা · 42/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা সাবা
فَالْيَوْمَ لَا يَمْلِكُ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ نَّفْعًا وَلَا ضَرًّا وَنَقُولُ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ۝٤٢
Fal Yawma laa yamliku ba`dukum liba`din naf`anw wa laa darraa; wa naqoolu lilzeena zalamoo zooqoo `azaaban Naaril latee kuntum bihaa tukazziboon
📖 বাংলা অর্থ
অতএব আজকের দিনে তোমরা একে অপরের কোন উপকার ও অপকার করার অধিকারী হবে না আর আমি জালেমদেরকে বলব, তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে মিথ্যা বলতে তা আস্বাদন কর।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَا يَمْلِكُ – ক্ষমতা রাখে না, অধিকারী হয় না।
  • نَفْعًا – উপকার, কল্যাণ।
  • ضَرًّا – ক্ষতি, অপকার।
  • ظَلَمُوا – যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে (অর্থাৎ শিরক ও গুনাহের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতি করেছে)।
  • ذُوقُوا – আস্বাদন করো, অনুভব করো।
  • تُكَذِّبُونَ – যা তোমরা মিথ্যা বলতে (অস্বীকার করতে)।

তাফসীর:

কিয়ামতের দিন সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যারা দুনিয়ায় আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কিছু বা অন্য কাউকে উপাস্য বানিয়ে পূজা করত, তারা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়বে। তাদের উপাস্যরা তাদের কোনো উপকার করতে পারবে না, কোনো ক্ষতিও দূর করতে পারবে না। এমনকি যারা উপাস্য ছিল, তারাও নিজেদের জন্য কিছু করতে পারবে না, আর যারা উপাসনা করত, তারাও তাদের উপাস্যদের জন্য কিছু করতে পারবে না। কারণ সেদিন সব ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। কোনো শাফাআত (সুপারিশ) বা বিনিময় সেদিন কার্যকর হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজে অনুমতি দেন।

এরপর আল্লাহ সেই সব লোকদের সম্বোধন করবেন যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে—অর্থাৎ শিরক করেছে, কুফরি করেছে এবং নবী-রাসূলদের আনা সত্যকে মিথ্যা বলেছে। তাদের বলা হবে: “এখন তোমরা সেই আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যা তোমরা দুনিয়ায় থাকতে মিথ্যা বলতে এবং অস্বীকার করতে।” এ এক ভয়ংকর লজ্জা ও অপমানের মুহূর্ত—যখন সত্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, কিন্তু তখন আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. দুনিয়ার কোনো শক্তি, উপাস্য বা বস্তুই আমাদের প্রকৃত উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না; সবকিছু আল্লাহর হাতে। তাই আমাদের ভয়-ভক্তি ও ভালোবাসা একমাত্র আল্লাহর জন্যই রাখা উচিত।
  2. কিয়ামতের দিন কোনো মিথ্যা আশ্রয় বা অজুহাত কাজে আসবে না। সেদিন প্রতিটি মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল পাবে।
  3. যে ব্যক্তি দুনিয়ায় সত্যকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে। আল্লাহ তাকে জুলুমকারী বলেছেন, কারণ সে নিজের আত্মার উপর অত্যাচার করেছে।
  4. এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, কুরআন ও রাসূল (সা.)-এর শিক্ষা মেনে চলা এবং আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়াই হলো সফলতার পথ। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লোভ-লালসা আমাদেরকে এমন শাস্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার যন্ত্রণা চিরস্থায়ী।
  5. আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা দুনিয়াতেই পাওয়া যায়। তাই আজই তওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসা উচিত, কারণ মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ থাকবে না।


📜 আয়াত 40-44 — সূরা সাবা

40وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ أَهَٰؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ
যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?
41قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنتَ وَلِيُّنَا مِن دُونِهِم ۖ بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ ۖ أَكْثَرُهُم بِهِم مُّؤْمِنُونَ
ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা জিনদের পূজা করত। তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী।
42فَالْيَوْمَ لَا يَمْلِكُ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ نَّفْعًا وَلَا ضَرًّا وَنَقُولُ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ
অতএব আজকের দিনে তোমরা একে অপরের কোন উপকার ও অপকার করার অধিকারী হবে না আর আমি জালেমদেরকে বলব, তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে মিথ্যা বলতে তা আস্বাদন কর।
43وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالُوا مَا هَٰذَا إِلَّا رَجُلٌ يُرِيدُ أَن يَصُدَّكُمْ عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُكُمْ وَقَالُوا مَا هَٰذَا إِلَّا إِفْكٌ مُّفْتَرًى ۚ وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়। আর কাফেরদের কাছে যখন সত্য আগমন করে, তখন তারা বলে, এতো এক সুস্পষ্ট যাদু।
44وَمَا آتَيْنَاهُم مِّن كُتُبٍ يَدْرُسُونَهَا ۖ وَمَا أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ قَبْلَكَ مِن نَّذِيرٍ
আমি তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি, যা তারা অধ্যয়ন করবে এবং আপনার পূর্বে তাদের কাছে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করিনি।
সাবাকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
42আয়াত

অনুবাদ — সাবা 42

সূরা সাবা আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতএব আজকের দিনে তোমরা একে অপরের কোন উপকার ও অপকার…

সূরা আয়াত 42/54 — সূরা সাবা سبأ (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা সাবা শুনুন, সূরা সাবা অনুবাদ, সূরা সাবা mp3, সূরা সাবা pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না