Wallazeena yunfiqoona amwaalahum ri`aaa`an naasi wa laa yu`minoona billaahi wa laa bil Yawmil Aakhir; wa mai yakunish shaitaanu lahoo qareenan fasaaa`a qareenaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন-সম্পদ লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जो लोग महज़ लोगों को दिखाने के वास्ते अपने माल ख़र्च करते हैं और न खुदा ही पर ईमान रखते हैं और न रोजे आख़ेरत पर ख़ुदा भी उनके साथ नहीं क्योंकि उनका साथी तो शैतान है और जिसका साथी शैतान हो तो क्या ही बुरा साथी है
আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন-সম্পদ লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
رِئَاءَ النَّاسِ — লোক দেখানোর জন্য, মানুষের প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে।
قَرِينًا — সঙ্গী, সাথী, সহচর।
فَسَاءَ قَرِينًا — কতই না নিকৃষ্ট সে সঙ্গী!
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আরেক শ্রেণির লোকের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের জন্য লজ্জাজনক শাস্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা হলো সেই সমস্ত লোক, যারা নিজেদের সম্পদ খরচ করে শুধুমাত্র মানুষের দেখানোর জন্য — যাতে লোকেরা তাদের প্রশংসা করে, তাদেরকে দানশীল ও উদার বলে মনে করে। তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই, আর তারা আখিরাতের দিনেও ঈমান আনে না। অর্থাৎ তাদের এই দান-খয়রাত কোনো নেকির উদ্দেশ্যে নয়, বরং তা সম্পূর্ণরূপে লোক দেখানো ও সুনাম অর্জনের জন্য।
এ ধরনের মন্দ কাজের মূল প্রেরণা হলো শয়তান। শয়তানই তাদেরকে এই কুপ্রবৃত্তিতে উদ্বুদ্ধ করে — যে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে মানুষের প্রশংসা কামনা করে এবং পরকালকে অস্বীকার করে। যার সঙ্গী যদি শয়তান হয়, তবে সে কতই না নিকৃষ্ট সঙ্গী! কারণ শয়তান মানুষকে সর্বদা পথভ্রষ্ট করে, কল্যাণের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এবং তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এই আয়াতটি বিশেষভাবে সেই মুনাফিক বা মুশরিকদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতায় লিপ্ত ছিল এবং লোক দেখানোর জন্য অর্থ ব্যয় করত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
প্রতিটি কাজের নিয়ত হতে হবে খাঁটি — শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লোক দেখানো বা প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে কোনো ভালো কাজ করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
ঈমান ও আখিরাতের বিশ্বাসই মানুষের সকল ভালো কাজের ভিত্তি। যার মধ্যে এই বিশ্বাস নেই, তার ভালো কাজও পরকালে কোনো ফল বয়ে আনে না।
শয়তান মানুষের চিরশত্রু। যে ব্যক্তি শয়তানের অনুসরণ করে, সে নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনে। তাই আমাদের উচিত শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।
মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনেক বড় ও স্থায়ী। যে ব্যক্তি মানুষের প্রশংসার পেছনে ছোটে, সে দুনিয়াতেও সন্তুষ্টি পায় না এবং আখিরাতেও ব্যর্থ হয়।
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।
যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে-বস্তুতঃ তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব।
আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন-সম্পদ লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী।
আর কিই বা ক্ষতি হত তাদের যদি তারা ঈমান আনত আল্লাহর উপর কেয়ামত দিবসের উপর এবং যদি ব্যয় করত আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক থেকে! অথচ আল্লাহ, তাদের ব্যাপারে যথার্থভাবেই অবগত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।