আল-ইসরা · 42/111
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইসরা
قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَّابْتَغَوْا إِلَىٰ ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ۝٤٢
Qul law kaana ma`ahooo aalihatun kamaa yaqooloona izal labtaghaw ilaa zil `Arshi Sabeela
📖 বাংলা অর্থ
বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক পর্যন্ত পৌছার পথ অন্বেষন করত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • آلِهَةٌ — উপাস্য, ইলাহ (বহুবচন)
  • لَابْتَغَوْا — তারা পথ সন্ধান করত, চেষ্টা করত
  • ذِي الْعَرْشِ — আরশের অধিকারী (মহান আল্লাহ)
  • سَبِيلًا — পথ, উপায়

তাফসির:

হে নবী! আপনি এই মুশরিকদের বলুন— যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য থাকার দাবি করে, তাদের এই মিথ্যা ধারণার অযৌক্তিকতা একটু ভেবে দেখুন। যদি সত্যিই তাদের কথামতো আল্লাহর সাথে আরও কোনো উপাস্য বা ইলাহ থাকত, তাহলে সেই উপাস্যরা অবশ্যই মহান আরশের অধিকারী আল্লাহর সাথে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করত। তারা তাঁর রাজত্ব কাড়তে এবং তাঁর বিরুদ্ধে শক্তি পরীক্ষা করতে পথ খুঁজত— যেমনটি দুনিয়ার রাজা-বাদশাহরা একে অপরের বিরুদ্ধে করে থাকে।

কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, সমগ্র সৃষ্টিজগতে আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত। কেউ তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না, কেউ তাঁর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবকিছু তাঁরই অনুগত। যদি অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তাহলে তো তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত— যেমনটি কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে। যেহেতু এ রকম কিছু ঘটে না, তাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। মুশরিকদের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. তাওহিদের পক্ষে যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ— আল্লাহর একত্ব ও এককত্ব এমন একটি স্বতঃসিদ্ধ সত্য যা প্রতিটি বিবেকবান মানুষ বুঝতে পারে। একাধিক উপাস্য থাকলে সৃষ্টিজগতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো, কিন্তু আমরা দেখছি সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।
  2. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম একটি যুক্তিনির্ভর ধর্ম। ইসলামের প্রতিটি বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট যুক্তি ও প্রমাণ। আল্লাহ আমাদের অন্ধভাবে কিছু মানতে বলেননি, বরং চিন্তা-ভাবনা করে সত্য গ্রহণ করতে বলেছেন।
  3. মুশরিকদের সাথে দয়ালু ও হিকমতপূর্ণ পদ্ধতিতে তর্ক করার শিক্ষা— তাদের ভুল ধারণা খণ্ডন করার সময়ও উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে।
  4. আল্লাহর মহত্ত্ব ও ক্ষমতার প্রতি গভীর আস্থা— তিনি আরশের অধিকারী, সমগ্র সৃষ্টিজগতের একক শাসক। তাঁর সামনে কেউ মাথা তুলতে পারে না। এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে এবং তাকে সকল প্রকার শিরক থেকে দূরে রাখে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 40-44 — আল-ইসরা

40أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُم بِالْبَنِينَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِنَاثًا ۚ إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلًا عَظِيمًا
তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান নির্ধারিত করেছেন এবং নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা গুরুতর গর্হিত কথাবার্তা বলছ।
41وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَٰذَا الْقُرْآنِ لِيَذَّكَّرُوا وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا نُفُورًا
আমি এই কোরআনে নানাভাবে বুঝিয়েছি, যাতে তারা চিন্তা করে। অথচ এতে তাদের কেবল বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।
42قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَّابْتَغَوْا إِلَىٰ ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا
বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক পর্যন্ত পৌছার পথ অন্বেষন করত।
43سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا
তিনি নেহায়েত পবিত্র ও মহিমান্বিত এবং তারা যা বলে থাকে তা থেকে বহু উর্ধ্বে।
44تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ ۚ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَٰكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ ۗ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যাকিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।
আল-ইসরাকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
42আয়াত

অনুবাদ — আল-ইসরা 42

সূরা আল-ইসরা আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে…

সূরা আয়াত 42/111 — আল-ইসরা الإسراء (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইসরা শুনুন, আল-ইসরা অনুবাদ, আল-ইসরা mp3, আল-ইসরা pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না