আন-নিসা · 134/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِندَ اللَّهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا ۝١٣٤
man kaana yureedu sawaabad dunyaa fa`indallaahi sawaabud dunyaa wal Aakhirah; wa kaanal laahu Samee`am Baseeraa
📖 বাংলা অর্থ
যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর আল্লাহ সব কিছু শোনেন ও দেখেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ثَوَابَ الدُّنْيَا – দুনিয়ার প্রতিদান/পুরস্কার (পার্থিব সুখ-সম্পদ, ধন-দৌলত ইত্যাদি)।
  • سَمِيعًا – সর্বশ্রোতা (সবকিছু শোনেন)।
  • بَصِيرًا – সর্বদ্রষ্টা (সবকিছু দেখেন)।

তাফসীর:

হে মানুষ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার আমলের বিনিময়ে শুধুমাত্র দুনিয়ার প্রতিদান কামনা করে এবং আখিরাতের প্রতি উদাসীন থাকে, তার জানা উচিত যে, দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত প্রতিদান একমাত্র আল্লাহরই কাছে। তিনি উভয় জগতের মালিক। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো, আল্লাহর কাছেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা। কেননা, যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার স্বার্থে আমল করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়ায় তার নির্ধারিত অংশ দিতে পারেন, কিন্তু আখিরাতে তার জন্য কোনো সাওয়াব থাকবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আখিরাতের সাওয়াবের নিয়তে আমল করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেও প্রয়োজনীয় রিযিক দান করেন এবং আখিরাতে জান্নাত দান করেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সকল কথা শোনেন এবং তাদের সকল কাজ ও অন্তরের নিয়ত দেখেন। তিনি প্রত্যেককে তার নিয়ত ও কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মুমিনের দৃষ্টি সর্বদা আখিরাতমুখী হওয়া উচিত। দুনিয়ার সামান্য সুখের জন্য নিজের চিরন্তন সাফল্য নষ্ট করা অত্যন্ত মূর্খতা।
  2. আল্লাহর দরবার অত্যন্ত প্রশস্ত—তিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের মালিক। তাই তাঁর কাছেই সব কিছু চাওয়া উচিত।
  3. আমাদের প্রতিটি কাজ ও নিয়ত আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ প্রকাশিত। তিনি দেখেন আমরা কী উদ্দেশ্যে কাজ করছি—শুধু মানুষের দেখানোর জন্য নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
  4. আখিরাতের সাওয়াবের নিয়তে আমল করলে আল্লাহ দুনিয়ার রিযিকও থেকে বঞ্চিত করেন না। বরং তিনি বরকত দান করেন।
  5. নিয়তের বিশুদ্ধতা আমলের গ্রহণযোগ্যতার মূল শর্ত। তাই প্রতিটি ভালো কাজের আগে নিয়ত শুদ্ধ করে নেওয়া জরুরি।


📜 আয়াত 132-136 — আন-নিসা

132وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا
আর আল্লাহরই জন্যে সে সবকিছু যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে। আল্লাহই যথেষ্ট কর্মবিধায়ক।
133إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ وَيَأْتِ بِآخَرِينَ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ قَدِيرًا
হে মানবকূল, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সরিয়ে তোমাদের জায়গায় অন্য কাউকে প্রতিষ্ঠিত করেন? বস্তুতঃ আল্লাহর সে ক্ষমতা রয়েছে।
134مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِندَ اللَّهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর আল্লাহ সব কিছু শোনেন ও দেখেন।
135۞ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَن تَعْدِلُوا ۚ وَإِن تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।
136يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنزَلَ مِن قَبْلُ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর এবং বিশ্বাস স্থাপন কর তাঁর রসূলও তাঁর কিতাবের উপর, যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রসূলের উপর এবং সেসমস্ত কিতাবের উপর, যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতিপূর্বে। যে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর ও কিয়ামতদিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
134আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 134

সূরা আন-নিসা আয়াত 134 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন…

সূরা আয়াত 134/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 132–136. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না