বস্তুতঃ যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফের অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَرَضٌ (মারাদ): এখানে অন্তরের রোগ অর্থাৎ মুনাফিকি, সন্দেহ ও কুফরি।
رِجْسًا (রিজসান): অপবিত্রতা, নাপাকি, কুফরি ও গুনাহ।
إِلَىٰ رِجْسِهِمْ (ইলা রিজসিহিম): তাদের পূর্বের অপবিত্রতা ও কুফরির সাথে মিলিত হয়ে আরও বৃদ্ধি পাওয়া।
তাফসির:
আয়াতে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, যাদের অন্তরে মুনাফিকি, সন্দেহ এবং কুফরির রোগ রয়েছে, তাদের জন্য কুরআনের সূরা ও আয়াত নাজিল হওয়া রহমতের পরিবর্তে আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ যখনই কোনো নতুন আয়াত বা সূরা নাজিল হয়, তারা তা অস্বীকার করে এবং অন্তরে আরও সন্দেহ ও বিদ্বেষ পোষণ করে। ফলে তাদের পূর্বের কুফরি, মুনাফিকি ও পাপাচারের সাথে নতুন করে আরও কুফরি ও গুনাহ যুক্ত হতে থাকে — অর্থাৎ তাদের কলুষতা ও অপবিত্রতা দিন দিন বেড়েই চলে। তারা কুরআনের প্রতি ঈমান আনার পরিবর্তে বরং আরও দূরে সরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কুফরি অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে। এভাবে কুরআন মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও শিফা হয়, আর মুনাফিকদের জন্য হয় ধ্বংসের কারণ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
কুরআনুল কারিম মুমিনদের জন্য রহমত, শান্তি ও পথনির্দেশনা বয়ে আনে, কিন্তু যারা অন্তরে রোগ পুষে রাখে, তাদের জন্য তা আরও অধঃপতনের কারণ হয়। তাই আমাদের উচিত অন্তরকে কুফরি, সন্দেহ ও মুনাফিকি থেকে পবিত্র রাখা।
অন্তরের রোগ (হিংসা, বিদ্বেষ, সন্দেহ) মানুষের ইমান ও আমলকে ধ্বংস করে দেয় এবং তাকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।
কুরআন তিলাওয়াত ও শ্রবণ করার সময় আমাদের অন্তর যেন নরম হয় এবং তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকে — কারণ কুরআনই অন্তরের রোগের সর্বোত্তম প্রতিষেধক।
মৃত্যুর আগেই আমাদের উচিত তাওবা করা এবং কুফরি ও মুনাফিকি থেকে ফিরে আসা, কারণ মৃত্যু যখন চলে আসে, তখন আর ফেরার সুযোগ থাকে না।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অন্তরের পবিত্রতা অপরিহার্য। যে ব্যক্তি অহংকার ও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সত্য প্রত্যাখ্যান করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে।
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে।
আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি-না-অতঃপর সরে পড়ে। আল্লাহ ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।